প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্যারিসে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সুখবর এসেছে। ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রকাশের তারিখ ২৬ জুলাই, ২০২৬, বেলা ০৯:৪৭।
প্যারিসে ই-পাসপোর্টের জন্য অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে যে ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছিল বাংলাদেশি প্রবাসীরা, সেই ভোগান্তি লাঘবের উদ্দেশ্যে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালু করেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের প্রথম দিনেই পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই ৮০ জনের বেশি প্রবাসী ই-পাসপোর্টের আবেদন সম্পন্ন করেন। তবে, প্রবাসীরা উদ্যোগটিকে স্বাগত জানালেও তাদের দাবি, সেবাটি আরো সহজ, দ্রুত, এবং প্রবাসীবান্ধব হতে হবে।
আরো পড়ুন: দাম আরো কমে যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনা।
সম্প্রতি বাংলাদেশ দূতাবাস, ই-মেইলভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে ওয়েবসাইটভিত্তিক অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করে। নতুন এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে পাশাপাশি সীমিত সংখ্যক স্লট উন্মুক্ত করা হলেও, অনেক আবেদনকারী দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও মিনিটের মধ্যে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছেন না, বলে অভিযোগ করেছেন।
একজন আবেদনকারী জানান, ‘আমি গতকাল রাতে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারিনি। ওয়েবসাইটে বারবার ত্রুটি দেখাচ্ছিল।’
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ই-পাসপোর্ট আবদনের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া এবং সাম্প্রতিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য প্রথম দফায় ২৫ জুলাই, ৮ আগস্ট ও ২২ আগস্ট—এই তিনটি শনিবার বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব প্রবাসীর ফরাসি প্রশাসন বা প্রেফেচুরে রেসিডেন্স পারমিট-সংক্রান্ত নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট রয়েছে, তাদের ভোগান্তি কমাতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে দূতাবাস।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিল জানান, ‘বিশেষ কনস্যুলার সেবার প্রারম্ভিক প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক। প্রথম দিনেই ৮০ জনের বেশি ব্যক্তিকে সেবা দেওয়া হয়েছে। বিগত সময়ে যারা ই-পাসপোর্ট আবেদনের জন্য ই-মেইল করেছিলেন, তাদের আবেদন ও ই-মেইলের উত্তর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে।’
ওয়েবসাইটের কারিগরি সমস্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যখন বিপুল পরিমাণ মানুষ কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন, তখন সাময়িক কারিগরি সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমরা আইটি টিমের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি, যাতে সাইটটি আরো সহজ, কার্যকর ও প্রবাসীবান্ধব করা যায়।’
কনস্যুলার সেবায় জনবল সংকট রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দ্বিতীয় সচিব বলেন, ‘বৃহৎ প্রবাসী কমিউনিটির তুলনায় প্রায় সব দেশেই কনস্যুলার সেবায় জনবল বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। তবে এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। আমরা বিদ্যমান জনবল ও সক্ষমতা দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
শনিবারের বিশেষ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবীরা দূতাবাসকে সহযোগিতা করেন। আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান, সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় দিকনির্দেশনার মাধ্যমে তারা সেবা কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল ও দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ভূমিকা রেখেছেন। দূতাবাসের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণ উপস্থিত প্রবাসীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
সম্প্রতি ই-পাসপোর্টের অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে, দূতাবাস বিশেষ কনস্যুলার সেবা এবং কয়টি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তবে, প্রবাসীদের মতে, শুধু বিশেষ কনস্যুলার সেবা নয়, দীর্ঘমেয়াদে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাকে আরো নির্ভরযোগ্য এবং ব্যবহারবান্ধব করতে হবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য একটি কার্যকর টেলিফোন হেল্পলাইন চালু এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কনস্যুলার সেবার পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন