প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় নির্মাণ করা হয়েছে একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট, যার ব্যয় প্রায় ১২ কোটি টাকা। এটি চালু হলে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে জৈব সার ও বায়োগ্যাস তৈরি হবে।
এই সারটি কৃষি জমিতে ব্যবহার করতে পারবেন প্রান্তিক চাষিরা স্বল্পমূল্যে। এতে ফসল উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনই সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান। একই সঙ্গে, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব পৌর শহর গড়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিবচর পৌরসভার চরশাম্যাইল ও শ্যামাইল মৌজায়, ২ দশমিক ৬৮ একর জমিতে ২০২৩ সালে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিটের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে টার্ন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মোট ১ দশমিক ৫৪ একর জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং বাকি ১ দশমিক ১৪ একর খাস জমিতে প্রকল্পটির কাজ হচ্ছে। প্রকল্প শুরু হওয়ার আগেই ব্যক্তিগত মালিকানা ১ দশমিক ৫৪ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন করে জনস্বাস্থ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়েছে।
বর্তমানে উদ্বোধনের অপেক্ষা। তবে, অধিগ্রহণের ৩ বছর পার হলেও ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকরা এখনো ক্ষতি পূরণের কোনো টাকা পাননি।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, শিবচর পৌরসভার বাসাবাড়ি থেকে প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে এই ইউনিটের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা হবে জৈব সার। বায়ুদূষণ রোধে এবং পরিবেশবান্ধব পৌর শহর গড়তে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রথম দুই বছর নিজেদের অর্থায়নে জৈব সার উৎপাদন করবে। পরবর্তীতে সরকারের মাধ্যমে উৎপাদন শুরু হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবর বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শিবচরে ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা সমস্যা ছিল। এই প্রকল্প চালু হলে শহর আরো পরিচ্ছন্ন হবে। এতে অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।’ কৃষক হামেদ শিকদার বলেন, ‘বর্তমানে রাসায়নিক সারের দাম অনেক বেশি। যদি এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত জৈব সার স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের চাষাবাদের খরচ কমবে। জৈব সার ব্যবহারে জমির উর্বরতা বাড়বে ও মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। এতে ভালো ফলন হবে এবং আর্থিকভাবে লাভ হবে।’
উপশহরের বাসিন্দা আলী আকবর খান বলেন, ‘উপশহরে শেষ মাথায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। দুর্গন্ধের কারণে ঠিকমতো নিঃশ্বাস নেয়া যায় না। শিশুদের মধ্যে নানা রোগ দেখা দিয়েছে। এমনকি দুর্গন্ধের কারণে মসজিদে নামাজ আদায় করতে সমস্যা হচ্ছে। তাই দ্রুত আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থা চালু করে আমাদের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।’
শিবচর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী শামীমা নাসরিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রকল্পটি চালু হলে শিবচর পৌরসভার চেহারা পাল্টে যাবে। সড়কে আর ময়লা থাকবে না। বাসাবাড়ি থেকে সংগৃহীত আবর্জনা এখানে এনে প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার তৈরি হবে। সাধারণ কৃষকরা কম খরচে সার কিনে জমিতে ব্যবহার করতে পারবে। সব মিলিয়ে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মানে বড় পরিবর্তন আসবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রকল্পটির নির্মাণকাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন