প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এমভি জুন অ্যাস্টার নামের যাত্রীবাহী ফেরিটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় পর ফিলিপাইনের কোস্টগার্ড অবশেষে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করেছে। তীব্র তাপমাত্রা এবং বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকারীরা এর আগে জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছিলেন না।
শুক্রবার সকালে ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, রাজধানী ম্যানিলা থেকে করোন দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করা ফেরিটি থেকে তখনও ধোঁয়া উঠছে। তবে শুক্রবার বিকেলে প্রকাশিত নতুন ছবিতে ধোঁয়ার পরিমাণ কিছুটা কমে আসতে দেখা গেছে। বুধবার উদ্ধার অভিযান শুরুর পর থেকেই বিষাক্ত ধোঁয়া ও প্রচণ্ড তাপের কারণে উদ্ধারকারীরা জাহাজটির ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালাতে সমস্যায় পড়ছিলেন।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধারকারীরা জাহাজটির ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। এ সময় জিএমটি অনুযায়ী ভোর সাড়ে ৩টা বাজে। এর আগে কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র নোয়েমি কায়াবিয়াব বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করা। কারণ সেখানে এখনও ঘন ধোঁয়া রয়েছে।’
স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি আরো বলেছিলেন, ‘আমরা যতই ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করি না কেন, প্রচণ্ড তাপ ও বিষাক্ত ধোঁয়া আমাদের কর্মীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
অসম্পূর্ণ দহনের ফলে তৈরি ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকতে পারে, যা মানুষের জন্য প্রাণঘাতী। এর আগে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ৮৬ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে শুক্রবার সকালে নিখোঁজের সংখ্যা কমে ৮৪ জনে দাঁড়ায়। যাত্রী তালিকায় নাম থাকলেও ওই দুজন শেষ পর্যন্ত জাহাজে ওঠেননি বলে জানা গেছে।
কায়াবিয়াব জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান আরো বিস্তৃত করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড তাদের অন্যতম বড় একটি জাহাজ ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকার অন্যান্য জাহাজের কাছেও রেডিও বার্তার মাধ্যমে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তল্লাশি দলে ডুবুরি ও নার্সরাও রয়েছেন।
করনের স্থানীয় এক ডুবুরি শুক্রবার বিবিসিকে জানান, তিনি ও তাঁর দলের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছেন। তারা কোস্ট গার্ডের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন। এ ছাড়া দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের জলসীমায় আকাশপথেও নজরদারি চালিয়েছে কোস্ট গার্ড।
কায়াবিয়াব জানান, ফেরিটির কার্গো হোল্ড থেকে আবারও আগুন নেভানোর কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। কার্গো হোল্ড হলো জাহাজের সেই অংশ, যেখানে বিভিন্ন পণ্য ও কনটেইনার রাখা হয়। এর আগে কোস্ট গার্ড জানিয়েছিল, উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কার্গো হোল্ড থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, আগুন লাগার সময় কিছু যাত্রীর গায়ে লাইফ জ্যাকেট ছিল না।
বুধবার সন্ধ্যায় ফেরিতে আগুন লাগার পর সেখানে চিৎকার ও আতঙ্কের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া এক যাত্রী। উদ্ধারকারী নৌযানে করে তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। ৩০ বছর বয়সী রোল্যান্ড লেরমা বিবিসিকে জানান, আগুন থেকে বাঁচতে ফেরি থেকে বের হওয়ার সময় তিনি পড়ে যান। তিনি বলেন, ‘আমি যখন মেঝেতে পড়ে যাই, তখন লোকজন আমাকে পায়ের নিচে চাপা দিয়ে চলে যাচ্ছিল।’
পরে তিনি হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে আবার দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ফেরি থেকে সাগরে ঝাঁপ দেন। লেরমা জানান, আরও কয়েকজন শিশুকেও তিনি পানিতে ঝাঁপ দিতে দেখেছেন। তবে অন্ধকারের কারণে তাদের মুখ দেখতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘সাগরের পানি খুব ঠান্ডা ছিল। উদ্ধার করতে যদি আরও দেরি হতো, তাহলে আমি নিশ্চিতভাবেই মারা যেতাম।’ ফেরিটি রাজধানী ম্যানিলা থেকে যাত্রা শুরু করে পর্যটন শহর করোনের দিকে যাচ্ছিল। পালাওয়ান প্রদেশের এই গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় ফেরিটিতে আগুন লাগে। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ফিলিপাইনের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
‘পালাওয়ান ডেইলি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০২ সালে তৈরি ফেরিটির বৈধ নিরাপত্তা সনদ ছিল এবং চলতি বছরের মার্চে এটি পরিদর্শনেও উত্তীর্ণ হয়েছিল। তবে তদন্তকারীরা যাত্রী ও পণ্যবাহী তালিকায় কোনো অসঙ্গতি ছিল কি না, পণ্য ঠিকভাবে তোলা হয়েছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ক্রুদের প্রতিক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন।
ফেরিটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটিয়েনজা ইন্টারআইল্যান্ড ফেরিজ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্তে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রয়েছে। নিখোঁজ সবাইকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন