প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি এবং জাপান, এই চারটি দেশের জোট জি-৪ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দ্রুত সংস্কারের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে সক্ষম হচ্ছে না।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে জি-৪-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একত্রিত হন। বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ডেভিড ওয়াডেফুল এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিৎসু উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে তারা নিরাপত্তা পরিষদকে আরও কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি, বর্তমান বিশ্বের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে পরিষদের কাঠামোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানান।
এক যৌথ বিবৃতিতে জি-৪ উল্লেখ করেছে, বিশ্বে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের বৃদ্ধি নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারকে এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি করে তুলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো প্রায় ৮০ বছর পুরনো। ফলে এটি বর্তমান বিশ্বের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করতে পারছে না।
জি-৪-এর মতে, এই পুরনো কাঠামো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাধা সৃষ্টি করছে। এর ফলে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিত্ব, বৈধতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। চারটি দেশ তাই নিরাপত্তা পরিষদে দ্রুত ও কার্যকর সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪। তারা বলেছে, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে নিরাপত্তা পরিষদকে আরও কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল করতে হবে।
জি-৪-এর মতে, সংস্কারের অংশ হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী—দুই ধরনের সদস্য সংখ্যা বাড়ানো উচিত। একই সঙ্গে যেসব অঞ্চল এবং গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব কম বা নেই, তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এর মধ্যে আফ্রিকা, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত।
আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিষদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছে জি-৪। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সময় আফ্রিকান দেশগুলোর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে তারা। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদসহ আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
তবে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার নিয়ে আইজিএন আলোচনায় অগ্রগতি কম হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জি-৪। তাদের মতে, গত ১৮ বছর ধরে আলোচনা চললেও এখনো কাঙ্ক্ষিত কোনো বাস্তব ফল পাওয়া যায়নি। লিখিত আলোচনা শুরুর আগে একটি ‘সমঝোতামূলক প্রস্তাব’ উপস্থাপনের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে জি-৪।
তাদের দাবি, ওই প্রস্তাবে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী—দুই ধরনের সদস্যপদ বাড়ানোর পক্ষে থাকা অধিকাংশ দেশের মতামত প্রতিফলিত হয়নি।
জি-৪ আরো বলেছে, জাতিসংঘ সনদ ও আইজিএনের নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সব দেশের ঐকমত্য থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ভবিষ্যতে সংস্কারপন্থী অন্যান্য দেশ ও জোটের সঙ্গে কাজ করে মতের মিল রয়েছে এমন বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে চায় জি-৪। পাশাপাশি অধিকাংশ সদস্য দেশের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি যৌথ সংস্কার প্রস্তাব তৈরির কথাও জানিয়েছে তারা।
জি-৪ বলেছে, নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার নিয়ে লিখিত আলোচনা দ্রুত শুরু করাই তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তাদের মতে, এর মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদে বাস্তব ও কার্যকর সংস্কারের পথ তৈরি হতে পারে।
জি-৪-এর দেশগুলো বলেছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল, বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর করতে সংস্কার জরুরি। তাদের মতে, এই সংস্কারের মাধ্যমে জাতিসংঘের বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে। বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিরাপত্তা পরিষদকে বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জয়শঙ্কর বলেন, নিউইয়র্কে জি-৪-এর বৈঠকে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কার এবং আরও প্রতিনিধিত্বশীল ও কার্যকর নিরাপত্তা পরিষদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ডেভিড ওয়াডেফুলও নিরাপত্তা পরিষদে বিশ্বের পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটানোর ওপর জোর দেন। তিনি আফ্রিকার দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান।
ওয়াডেফুল বলেন, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর বিশ্বে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তাই জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থাতেও সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন থাকা দরকার। ভারত, ব্রাজিল ও জাপানের সঙ্গে জার্মানি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপত্তা পরিষদের জন্য কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার দেশগুলোর মতামত ও প্রতিনিধিত্ব আরও যথাযথভাবে তুলে ধরা উচিত।
এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলাকালে জি-৪-এর চার দেশ ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নিজ নিজ দেশের কর্মকর্তাদের কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীতে নয়াদিল্লিতে মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে সংস্কার উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার বিষয়েও তারা একমত হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ডেভিড ওয়াডেফুলের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংকট এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
পরে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জয়শঙ্কর বলেন, ইউক্রেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান সংকট নিয়ে তারা মতবিনিময় করেছেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে ভারত ও জার্মানির সহযোগিতা শক্তিশালী রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন