প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ আইআরএফ আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সেমিনারে ‘বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বীমা খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন।
তিনি বলেন, দেশের বীমা খাতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন ন্যায্যতা, জবাবদিহি, সুশাসন, পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন এবং কার্যকর বাজারভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। দীর্ঘদিনের দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসনের কারণে বীমাসহ আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা হ্রাস পেয়েছে। এ অবস্থায় গ্রাহকের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
রাজধানীর বিজয়নগর হোটেল একাত্তরে আইআরএফ আয়োজিত এই সেমিনারে তিনি বলেন, সরকার অতিনিয়ন্ত্রণে বিশ্বাসী নয়। তবে গ্রাহকের অধিকার রক্ষায় শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক ও বাজারভিত্তিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রয়োজন। বীমা কোম্পানিতে লুটপাট ও মালিকানার অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে, কৃষি ও স্বাস্থ্যবীমাসহ নতুন পণ্যের সম্প্রসারণ, পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার শক্তি বৃদ্ধি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ হলেও কৃষি বীমার প্রসার খুবই সীমিত। স্বাস্থ্যবীমাও محدود জনগণের মধ্যে রয়েছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ছাড়া গ্রাহকসেবা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বীমা খাত সংস্কারে গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার, খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ভিত্তি গড়ে তোলাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার অনিষ্পন্ন দাবি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা, ডিজিটাল রূপান্তর ও মাইক্রোইন্স্যুরেন্স সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাঈদ আহমেদ বলেন, বীমা কমিশনকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং অনিয়ম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে। মোটরযান বীমাকে বাধ্যতামূলক করা এবং নতুন খাতে বীমা সেবা সম্প্রসারণের গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের সভাপতি বিএম ইউসুফ আলী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে বীমা খাতকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করতে সরকারের, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বীমা কোম্পানিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জাহিদ উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনীতিতে বীমার প্রবেশযোগ্যতা কম। দুর্বল নিয়ন্ত্রণ, সুশাসনের অভাব ও স্বল্পমেয়াদি লাভের প্রবণতা কাটিয়ে কৃষি ও জলবায়ুভিত্তিক বীমা সম্প্রসারণের উপর তিনি জোর দেন।
জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস মি নুরুজ্জামান বলেন, সাধারণ বীমার তুলনায় জীবন বীমা খাতের সংকট বেশি। সম্পদ বিক্রির জটিলতা দূর এবং ব্যাংকঋণ সহজলভ্য হলে এই সংকট অনেকটাই কমবে।
মূল প্রবন্ধে মনির হোসেন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বীমা খাতের আধুনিকায়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন