প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তীব্র গরম, খরা, অতিবৃষ্টি এবং বন্যার মতো চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
গত শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত ডব্লিউএমওর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এল নিনোর প্রভাব দ্রুতভাবে বাড়তে পারে। এই সময়ে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বেড়ে যেতে পারে।
ডব্লিউএমওর মুখপাত্র ক্লেয়ার নালিস মন্তব্য করেন, বছরের সবচেয়ে গরম সময়ের সূচনার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ তিনি উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহে জার্মানিতে ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ আরও কিছু দিন অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হতে পারে।
অন্য দিকে, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার আশঙ্কা দেখা গেছে। তবে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন স্থানে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হতে পারে। এতে বন্যার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময় ভারত মহাসাগরের আরেকটি জলবায়ুগত ঘটনা ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ও পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ডব্লিউএমও বলছে, আগাম সতর্কতার কারণে সরকারগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবে। এতে করে মানুষের এবং তাদের জীবিকার ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। সংস্থাটির কর্মকর্তা উইলফ্রান মুফুম্বা সিলভা বলেন, যেসব অঞ্চলে খরার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে কৃষির জন্য, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এবার থেকেই পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।
এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা, যার ফলস্বরূপ প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনো দেখা দেয় এবং এর স্থায়ীত্ব থাকে ৯ থেকে ১২ মাস। এই প fenômeno সাধারণত বছরের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে, বছরের শেষের দিকে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়।
বিশেষজ্ঞগণের মতে, এল নিনো যত শক্তিশালী হয়, ততই বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়া তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। আর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তবে ডব্লিউএমও জানাচ্ছে, এল নিনোর প্রভাব প্রতিটি দেশে একই রকম নাও হতে পারে। এল নিনো বা লা নিভা না থাকলেও চরম আবহাওয়া ঘটতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন