প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে গত সপ্তাহে তেলবাহী জাহাজে হামলার সংখ্যা ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর যেকোনো সপ্তাহের তুলনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। হামলার পরপরই জাহাজ চলাচলে এই পতন দেখা গেছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য থেকে এসব বিষয় জানা গেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, কেপ্লার নামে একটি তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুসারে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। গত ২৩ জুলাইয়ের পর এটিই সবচেয়ে কম সংখ্যা।
৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কেপ্লারের বিশ্লেষক এমানুয়েল বেলোস্ত্রিনো ও ইউই তোরিকাতা লিখেছেন, “যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ অবস্থার তুলনায় আগের সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহন ২৭ শতাংশ কমেছে। প্রতিদিন অন্তত ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে।”
তারা আরো উল্লেখ করেছেন, “এটি এখন সেপ্টেম্বরে গড় পরিমাণের পর্যায়ে ফিরে এসেছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এটি ৭৪ শতাংশ।” বিশ্লেষকেরা জানান, এই পতনের বেশির ভাগই হয়েছে ওমান উপসাগরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে। এ প্রক্রিয়ায় এক ট্যাংকার থেকে আরেক ট্যাংকারে পণ্য স্থানান্তর করা হয়।
তবে ওমান উপসাগরের উপকূল ও লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি বেড়ে প্রতিদিন ৬৭ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এটি দ্বিগুণেরও বেশি। বিশ্লেষকেরা বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই বাড়তি রপ্তানি তা পুষিয়ে দিয়েছে।
তাদের মতে, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের মোট রপ্তানি যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়েই রাখা সম্ভব হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা কিছুটা বেড়ে ১০টিতে দাঁড়ায়। তবে রোববার ও সোমবার প্রতিদিন ২০টির বেশি জাহাজ চলাচল করেছিল। বুধবারের সংখ্যা তার তুলনায় অনেক কম। গত দুই দিনে প্রণালিতে প্রবেশকারী জাহাজের সংখ্যা বেরিয়ে যাওয়া জাহাজের চেয়ে বেশি ছিল।
এই হিসাবের মধ্যে এমন জাহাজগুলো নেই, যেগুলো শনাক্ত হওয়া এড়াতে তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে প্রণালি পার হয়েছে। সব জাহাজের চলাচলের তথ্য দেওয়া এলএসইজি-এর হিসাবে, মঙ্গলবার আটটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। এর মধ্যে চারটি জাহাজ প্রণালিতে ঢুকেছে এবং চারটি বের হয়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১৪টি।
এলএসইজি জানায়, মঙ্গলবার চলাচল করা জাহাজগুলোর মধ্যে পাঁচটি ছিল তেলবাহী ট্যাংকার। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ আল মাফইয়ারও ছিল। জাহাজটি কাতারের রাস লাফান থেকে গ্যাস নিয়ে পাকিস্তানের পোর্ট কাসিমের দিকে যাওয়ার কথা ছিল।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সূত্রগুলো জানায়, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ইরান যুদ্ধ শুরুর পর যেকোনো সপ্তাহের তুলনায় সর্বোচ্চ ছিল। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোও তেল রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা জোরদার করেছে।
সর্বশেষ ঘটনায় কাতারের মদিনাত আশ শামাল থেকে ৫১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে একটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো উড়ন্ত বস্তু আঘাত হানে। এতে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। বুধবার যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। এসব জাহাজের মধ্যে ছিল তেলবাহী ট্যাংকার, গ্যাসবাহী জাহাজ, বাল্ক কার্গো জাহাজ ও কনটেইনারবাহী জাহাজ।
এসব জাহাজে বহন করা পণ্য বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশের সমান ছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন