প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্মীপুরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ঘটনায় ৪৮ গ্রাহকের প্রায় সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের একটি রহস্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নোয়াখালী দীর্ঘদিন পর উদ্ঘাটন করেছে। এ ঘটনার মূল আসামি মো. নাছির উদ্দিন, যিনি ওরফে খোকন নামে পরিচিত, আদালতে এসে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে সংস্থাটি জানাচ্ছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল বেলায় লক্ষ্মীপুরের সিনিয়র জ Judicial ম্যাজিস্ট্রেট (ক্ষমতাপ্রাপ্ত) তাসলিমা ইসলামের আদালতে আসামি খোকন জবানবন্দি দেন। ৫৫ বছর বয়সী আসামি খোকন লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের মৃত আলী আকবরের ছেলে।
পিবিআই নোয়াখালী জেলা কার্যালয় জানায়, লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি মামলার তদন্তকালে জানা গেছে, মো. নাছির উদ্দিন ওরফে খোকন ২০১৯ সাল থেকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির লক্ষ্মীপুর জেলার আওতাধীন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মিরিকপুর শাখার একটি আউটলেটের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি মো. শহিদুল্লাহ ওরফে জিয়াকে ট্রেইলার হিসেবে নিয়োগ দেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায় যে, তারা পরস্পর যোগসাজশ করে গ্রাহকদের জমা দেওয়া টাকা ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এই পরিস্থিতিতে যখন গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন বা হিসাব হালনাগাদ করতে যাচ্ছিলেন, তখন বিষয়টি সামনে আসে এবং আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।
পিবিআইয়ের তদন্তে আরও জানা গেছে যে, ব্যাংকের সার্ভারে ত্রুটির কথা বলে ৪৮ জন গ্রাহককে ভুয়া, হাতে লিখা এবং ভুয়া বায়োমেট্রিক ফিক্সড ডিপোজিট স্লিপ সরবরাহ করা হয়। এই মাধ্যমে মোট ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
মামলাটি লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৮, ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় দায়ের করা হয়। লক্ষ্মীপুর সদর থানা পুলিশ ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট মো. নাছির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে মামলার তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তভার পিবিআই নোয়াখালী জেলার ওপর ন্যস্ত করেন। মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন পিবিআই নোয়াখালীর এসআই (নিরস্ত্র) মো. কামাল আব্বাস। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধার করার লক্ষ্যে আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে।
পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে মামলাটির নিরবচ্ছিন্ন তদন্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ আত্মসাতের বিস্তারিত তথ্য অধিগ্রহণ করা গেছে। পরে মূল আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের কাজ অব্যাহত রয়েছে পিবিআই নোয়াখালী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন