প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নজরুল ইসলাম ছয় বিঘা জমিতে এবছর পাটের আবাদ করেছেন। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলার চর বড়লই এলাকার এই চাষি পাট কাটার পর তা জাগ দিয়েছেন পাশের ধরলা নদীতে।
এতে পানির অভাব হয়নি। বাজারে পাটের দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।
নজরুল একা নন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি সত্ত্বেও এবছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় জেলার অধিকাংশ কৃষক লাভবান হয়েছেন। যদিও বেসরকারি পাটক্রয় কেন্দ্রের ক্রেতা না আসলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মজুদদাররা পাট কিনে গুদামজাত করছেন।
ফলস্বরূপ, বাজারে পাটের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নজরুল জানিয়েছেন, নদীর পানিতে জাগ দেওয়ার কারণে পাটের রং ও মান উন্নত হয়েছে। প্রথমে খরা এবং পরে বৃষ্টির কারণে পাটের আবাদ ভালো হয়েছে।
তিনি প্রতিমণ পাটের জন্য গত বছরের তুলনায় অন্তত ৫০০ টাকা বেশি দাম পাচ্ছেন। তার ভাইও ১৫ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। তাদের হাটে যেতে হচ্ছে না পাট বিক্রির জন্য। চাহিদার কারণে পাইকাররা বাড়িতে এসে পাট নিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, মোকামের তুলনায় স্থানীয় বাজারে পাটের দাম বেশি থাকায় পাটচাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় পাটচাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে চাষ হয়েছে ১৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ও বাজার পরিদর্শন করে জানা গেছে, জমি থেকে পাটকাটা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। হাট-বাজারে পাটের ভরা মৌসুমে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিমণ পাট মানভেদে বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৮০০ টাকা থেকে চার হাজার ৫০০ টাকায়। মৌসুমের শুরুর দিকে দাম কিছুটা কম থাকলেও বর্তমানে বাজার চাঙ্গা।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী হাটের পাট ব্যবসায়ী জীবন ঘোষ জানিয়েছেন, তারা গুদাম ভাড়া করে বেশি মুনাফার আশায় পাট কিনে মজুদ করছেন। বেসরকারি কোম্পানি পাট কেনা শুরু করলে দাম বাড়তে পারে, তখন বিক্রি করবেন।
অন্যদিকে, পাট ব্যবসায়ী বাবুল আখতার বীর জানিয়েছেন, অন্যান্য বছর এই সময় ট্রাকযোগে এই এলাকার পাট খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে যেত। কিন্তু এবার মোকামের তুলনায় স্থানীয় বাজারে দাম বেশি থাকায় বাইরের ব্যবসায়ী আসছেন না, স্থানীয়রাই মজুদ করছেন।
যাত্রাপুর হাটের পাট ব্যবসায়ী শরীফ আলম জানিয়েছেন, চরাঞ্চলে এবছর পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। নদীপারে হাট হওয়ায় নৌকাযোগে প্রচুর পাট আসছে হাটে।
কুড়িগ্রাম জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান বলেছেন, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবছর সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে চাষিদের পাট জাগ দিতে অনেক সমস্যা হয়েছে। তবে ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন