প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহীর তানোরের সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজ কেন্দ্রে পুরনো প্রশ্নপত্রে বাংলা প্রথমপত্র এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্র সচিবসহ তিনজন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই অব্যাহতির বিষয়টি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অবহিত করার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। নতুন কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অব্যাহতি প্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন, সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসার ড. মোস্তফা কামাল, অত্র কলেজের সহকারী অধ্যাপক সেকেন্দার আলী এবং আফজাল হোসেন। নতুন কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গোলাম নবী।
তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের সভাপতি নাঈমা খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, বিষয়টি গোপন রাখতে তানোর কলেজের শিক্ষকরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়েছেন।
জানা গেছে, গত ২ জুলাই এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় কালিগঞ্জ হাট ডিগ্রী কলেজের ৭ জনসহ মোট ১১ জন নিয়মিত শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আইনগতভাবে ২০২৫ সালের এমসিকিউ (ক) সেটের প্রশ্ন দিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে এই ঘটনার বিষয়ে জানাজানি হলে, তানোর কলেজের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের উপর চাপ সৃষ্টি করে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেন।
কালিগঞ্জ হাট ডিগ্রী কলেজের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, ‘২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে আমাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আমাদের যেন কেউ কিছু না জানেনে সেজন্য তানোর কলেজের শিক্ষক মাসিন্দা গ্রামের মামুন স্যার আমাদের শাসন করেছেন।
অবশেষে আমরা নিজেদের শিক্ষা জীবনের কথা চিন্তা করে তানোর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার কাছে গিয়ে পুরো বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছি।’
সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসার ড. মোস্তফা কামাল মন্তব্য করেন, ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ২০২৫ সালের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র দিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছেন। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডে জানানো হয়েছে। আমাকে কেন্দ্র সচিব হিসেবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং নতুন কেন্দ্র সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের সভাপতি নাঈমা খান কালের কণ্ঠকে জানান, ‘বিষয়টি আমি জানতাম না। রবিবার শিক্ষার্থীরা এসে আমাকে জানিয়েছে। এরপর কলেজের অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের কাছে নিশ্চিত হয়েছি। ভুলক্রমে ২০২৫ সালের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র দিয়ে ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা নেওয়া এবং দায়িত্ব অবহেলার কারণে কলেজের অধ্যক্ষ, কেন্দ্র সচিব এবং কক্ষ পরিদর্শক দুইজন শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়ে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন