প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন সঞ্চালন ও বিতরণ-সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে পর্যালোচনা সভায় বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকারি উদ্যোগে দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, স্মার্ট ও যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ওয়ার্কিং পেপার তৈরির জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
আজ সোমবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন সঞ্চালন ও বিতরণ-সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনার কথা বলেন।
সভায় দেশের বিদ্যমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ সক্ষমতা, বিদ্যমান দুর্বলতা, স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থা, এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা চালুর সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রাক্কালে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবিলায় দ্রুত প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। তিনি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও যুগোপযোগী করতে একটি জাতীয় গবেষণা কেন্দ্র (ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার) প্রতিষ্ঠার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন।
এছাড়া, তিনি যোগ করেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ একটি উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর খাত এবং তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা আবশ্যক। সে লক্ষ্যে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশকে (পিজিসিবি) প্রয়োজনীয় সমীক্ষা পরিচালনা করে একটি কনসেপ্ট পেপার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ ব্যবহারে অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক পরামর্শকদের মাধ্যমে ওই কনসেপ্ট পেপার মূল্যায়ন করা হবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার আগেই দেশের সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা হবে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, আমরা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে বহুমাত্রিক জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে গেছি এবং বর্তমানে কয়লা ও সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুতের দিকেও অগ্রসর হচ্ছি। এজন্য ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থার কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, অতীতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় গড়ে তোলা হয়নি এবং ফলস্বরূপ, সময়মতো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সিস্টেম বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও আধুনিক স্মার্ট অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় মন্ত্রী স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থা বিষয়ে বিস্তারিত কনসেপ্ট ও ওয়ার্কিং পেপার উপস্থাপনের জন্য পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা উপস্থাপনের আশ্বাস দেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর ও জটিল ব্যবস্থা হওয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণ আবশ্যক। তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েই আমরা কাজ করছি।
তিনি জানান, বিদ্যুৎ খাতের অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও জবাবদিহি নির্ধারণে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভা শেষে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
সভায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বাবিউবো) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম এবং পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সক্ষমতা, চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।
সভায় বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখও উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন