প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনে নগরীর বিভিন্ন অর্জন, সীমাবদ্ধতা, সমস্যা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি জনতার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি নাগরিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সমস্যা সমাধানে একগুচ্ছ আশ্বাস প্রদান করেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত নগরীর টাউন হল অডিটোরিয়ামে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে অর্ধ শতাধিক নাগরিক নগরীর যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তা-ড্রেন, ভবন নির্মাণ ও অনুমোদন, কর এবং দুর্নীতির মতো বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসকের কাছে প্রশ্ন তুলে ধরেন।
নাগরিক সেবা ডিজিটালাইজেশনের প্রসঙ্গে প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন জানান, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সেবায় ইতোমধ্যে ডিজিটাল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, "পর্যায়ক্রমে যানবাহন নিয়ন্ত্রণেও ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
নগরীর যানজট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি স্বীকার করেন যে, এসব ক্ষেত্রে এখনও পূর্ণ সফলতা আসেনি। তিনি নগরবাসীর সহযোগিতায় অবৈধ যান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যানজট সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি নাগরিকদের বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, "বিগত সময়ের বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।" তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ঢালাওভাবে সবাইকে অভিযুক্ত করা সম্ভব নয়।
ভবন নির্মাণ ও অনুমোদনের বিষয়ে প্রশাসক জানান, নগরীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনকে অবহিত করতে হবে। তিনি বলেন, "রাস্তা ও ড্রেনের জন্য নির্ধারিত জায়গা ছেড়ে ভবন নির্মাণ করতে হবে।" ভবন অনুমোদনের দায়িত্ব নিয়ে সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেটিই বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, নবগঠিত ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এখনও পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো পায়নি। বর্তমানে অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে। নগরীর উন্নয়নকাজের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, অসমাপ্ত রাস্তা ও ড্রেনের নির্মাণকাজ আগামী মার্চের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সময় তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসে নগরবাসীর ওপর কোনো ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়নি। তবে নতুন ভবন নির্মাণ হলে নিয়ম অনুযায়ী কর দিতে হবে।
প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে নাগরিকদের বিভিন্ন অভিযোগ ও সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রশাসক। তিনি নগরীর যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভবন নির্মাণের নিয়ম, করব্যবস্থা এবং দুর্নীতির অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সচিব সুমনা আল মজিদ, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিঞা, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ হেলাল উদ্দিন, চিকিৎসক নেতা ডা. মোহাম্মদ আলী, মনসুর আলম চন্দন, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল হক টুটু, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজুল কবীর মামুন, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং প্রায় দেড় সহস্রাধিক নাগরিক প্রতিনিধি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন