প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলেও ফুটবল দুনিয়ায় আলোচনা এখন ব্যালন ডি’অরের চারপাশে ঘুরছে। বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের দরুণ রদরি অনেকের চোখে অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠেছে। তবে চোটের কারণে ক্লাব ফুটবলে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকায় তার সম্ভাবনা কিছুটা অনিশ্চিত হতে পারে।
অন্যদিকে, বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল ক্লাব পর্যায়ে এক উজ্জ্বল মৌসুম কাটালেও বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী কিছু করতে পারেননি। ফলে আলোচনার স্রোতে কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন এবং লিওনেল মেসির নামও উঠে আসছে।
এখন এমবাপ্পের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো, ক্লাব কিংবা জাতীয় দলের হয়ে কোনো বড় শিরোপা না জিতেও কি তিনি ব্যালন ডি’অর জিততে পারবেন?
ইতিহাস এই প্রশ্নের উত্তরে উত্তর দিচ্ছে, সম্ভব। নব্বইয়ের দশকের পর থেকে অন্তত তিনজন ফুটবলার বড় কোনো দলীয় শিরোপা ছাড়াই ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত এই পুরস্কারটি জিতেছে।
জর্জ উইয়াহ (১৯৯৫)
১৯৯৫ সালে লাইবেরিয়ার কিংবদন্তী জর্জ উইয়াহ পিএসজির হয়ে অসাধারণ মৌসুম কাটিয়েছিলেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে দলকে সেমিফাইনালে পৌঁছাতে সাহায্য করলেও পিএসজি লিগ বা ইউরোপীয় কোনো বড় শিরোপা জিততে পারে নি। পরবর্তীতে তিনি এসি মিলানে যোগ দিলেও ব্যালন ডি’অর ঘোষণার সময় তার ঝুলিতে কোনো বড় দলীয় ট্রফি ছিল না। তবুও ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানকে পেছনে ফেলেই তিনি ইতিহাসের প্রথম আফ্রিকান ও প্রথম অ-ইউরোপীয় ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর লাভ করেন।
লুইস ফিগো (২০০০)
২০০০ সালে বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত খেললেও লুইস ফিগো কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেননি। ইউরো ২০০০-এ পর্তুগালকে সেমিফাইনালে তুললেও শিরোপা তিনি পাননি। সেই বছর রেকর্ড ট্রান্সফারে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর তিনি ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন, যদিও তার কোনো দলই বড় ট্রফি জিততে পারলো না।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (২০১৩)
২০১৩ সালে বায়ার্ন মিউনিখ ট্রেবল জিতে ইতিহাস গড়লেও সেই বছর ব্যালন ডি’অর যায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কাছে। ওই সময় রিয়াল মাদ্রিদ কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেনি। কিন্তু রোনালদোর অসাধারণ ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, ৬৯ গোল এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার দেশে খ্যাতি, তাকে পুরস্কার এনে দেয়। ট্রেবলজয়ী বায়ার্নের তারকা ফ্র্যাঙ্ক রিবেরিকে পিছনে ফেলে পর্তুগিজ মহাতারকা ব্যালন ডি’অর অর্জন করেন।
এমবাপ্পের পক্ষে কী বলছে পরিসংখ্যান?
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দ্বিতীয় মৌসুমে কিলিয়ান এমবাপ্পে ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত ছিলেন। লা লিগায় ২৫ গোল করে তিনি টানা দ্বিতীয়বারের মতো পিচিচি ট্রফি জিতেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫ গোল করে তিনি হন সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে রিয়াল মাদ্রিদ মৌসুম শেষে কোনো বড় শিরোপা ছাড়াই শেষ করেছে।
বিশ্বকাপেও ফরাসি অধিনায়ক দুর্দান্ত ছিলেন। আট ম্যাচে ১০ গোল করে তিনি গোল্ডেন বুট জিতেন এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে পৌঁছান। তবুও সেমিফাইনালে বিদায় নেওয়ার কারণে বিশ্বকাপ ট্রফিও তার জন্য অধরা থেকে যায়।
ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে দলীয় সাফল্য বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ পরিমাণে গণ্য হয়, তবে ইতিহাস দেখিয়েছে, অসাধারণ ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স অনেক সময় ট্রফির অভাব পূরণ করতে পারে। জর্জ উইয়াহ, লুইস ফিগো এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো এমবাপ্পে কি সেই ব্যতিক্রমী তালিকায় নাম লেখাতে সক্ষম হবেন, এখন সেটিই ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন