প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানায় নতুন একটি বিস্ফোরক মামলায় মহানগর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল পাঠানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যদিও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
স্থানীয় সময় রোববার (১২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলগেট থেকে রাসেল পাঠানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই ঘটনার পর রাসেল পাঠানের পরিবার ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন যে, এটি আদালতের আদেশের সরাসরি অবমাননা এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
এবারের ঘটনায় দেখা যায়, গত ৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রিট পিটিশন নং ৮৫৮১ এর শুনানি শেষে নির্দেশ প্রদান করেন যে, সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া রাসেল পাঠানকে অন্য কোনোভাবে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা যাবে না।
অন্যদিকে, রাসেল পাঠানের আইনজীবী সেকান্দার আলীর অভিযোগ, রোববার বিকেলে তার জামিননামা কারাগারে পৌঁছায়, কিন্তু রাত ১০টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তাকে ফের আটক করে। পরে নতুন একটি বিস্ফোরক মামলা দায়ের করে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। আরও জানা গেছে, ময়মনসিংহ নগরীর কাশর এলাকার স্থানীয় অরুন মিয়ার ছেলে মো. রাকিব বাদি হয়ে ১২ জুলাই রাতে বিষ্ফোরক আইনে একটি মামলা করেন।
আদালতে দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট দুপুর আড়াইটায় নগরের বাতিরকল মোড়ে বাদী ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা শিকার হন। এই ঘটনার সময় আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের গতিরোধ করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
রাসেল পাঠানের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, যখন তিনি আগের সব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পেয়ে মুক্তির প্রত্যাশা করছিলেন, তখনই তাকে জেলগেট থেকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার করা হলো। রাসেল পাঠানের মা জোবেদা খাতুনের অভিযোগ, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ২০২৪ সালের পুরোনো ঘটনার নাটক সাজিয়ে নতুন মামলা দায়ের করেছে। এটি আমাদের পরিবারের প্রতি চরম অবিচার এবং আদালতের আদেশের প্রতি অবজ্ঞা।
রাসেলের আইনজীবী আরও বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তিকে বারবার হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এই বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল হাসান বলছেন, আগের সব মামলায় জামিনে থাকলেও নতুন করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি এও জানিয়েছেন যে, পুলিশ ছাড়া অন্য কেউ পাবলিক বিষ্ফোরক আইনে মামলা করতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন