প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চারদিনে ১১ সেশনে ব্যাটার-বোলারদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আধিপত্য বিস্তার করে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মত টেস্ট ম্যাচ জয়ের ইতিহাস তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে, ডারউইনে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানিয়েছেন, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট শেষে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শান্ত বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত যেকোনো সংস্করণে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। আমরা ভবিষ্যতে আরও বিশেষ কিছু করতে চাই। এই জয়ে আমরা দারুণ খুশি।’
প্রথম টেস্টে চারদিনে ১১ সেশন খেলা হয়েছে। বাংলাদেশের দল প্রতিটি সেশনে অস্ট্রেলিয়ার উপর প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেছে। বোলারদের পারফরমেন্সের পর, ব্যাটারদের চমৎকার খেলার কারণে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড পায় টাইগাররা। হাসান মাহমুদ বোলারদের মধ্যে প্রথম ইনিংসে ৬ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট শিকার করেন।
ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে তানজিদ হাসান দুর্দান্ত ১০১ রানের ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের পথে বড় অবদান রাখেন।
টেস্টে বাংলাদেশ দলের পারফরমেন্স নিয়ে শান্ত বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশে বড় পরিবর্তন ঘটেছে। পাঁচ বছর আগেও পেসাররা টেস্ট খেলতে চাইতো না। কিন্তু বর্তমানে আমরা অনেক টেস্ট খেলছি এবং তারা টেস্ট ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
দলের প্রত্যেকেই খেলতে এবং পারফর্ম করতে চায়। সবাই বিশ্বমানের হতে চায়। সবার মানসিকতাই এখন এমন। মুশফিকুর ও মোমিনুলের মতো সিনিয়ররা সবাইকে আরও বেশি টেস্ট ক্রিকেট খেলতে উৎসাহিত করেছেন।’
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে সেঞ্চুরির দেখা পান তানজিদ। ৮টি চার এবং ১টি ছক্কায় সাজিয়ে তানজিদের ১০১ রানের সুবাদে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে বড় লিড পায়। তানজিদের ইনিংস নিয়ে শান্ত বলেছেন, ‘সাধারণত সাদা বলের ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে থাকে তানজিদ। এই টেস্টে সে সাবধানে খেলেছে এবং বল অনুযায়ী শট খেলেছে। টপ অর্ডারের ব্যাটার হিসেবে আমরা চাই, তানজিদ যেন দলে প্রভাব ফেলতে পারে।’
সতীর্থদের সাথে ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে অধিনায়ক শান্ত নিজে হাফ-সেঞ্চুরির ইনিংস খেলেছেন। ৭টি চার এবং ১টি ছক্কায় ১২৬ বল খেলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। নিজের পারফরমেন্সে গর্বিত শান্ত বলেছেন, ‘নিজের পারফরমেন্স নিয়ে আমি গর্বিত। ছেলেরা যেভাবে খেলেছে, তাতেও আমি গর্বিত। আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি।’
প্রথম টেস্টের পারফরমেন্স অব্যাহত রেখে দ্বিতীয় ম্যাচে ভালো করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন শান্ত। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। পাঁচ দিনই ভালো ক্রিকেট খেলে যেতে হবে। যদি আমরা সেশন ধরে ধরে খেলতে পারি এবং নিচের সারির ব্যাটাররা নিয়মিত অবদান রাখতে পারে, তাহলে সবকিছুই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন