প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একেবারে অতীতে লিচু বলতে শুধু দিনাজপুরের লিচুকেই বোঝানো হতো। তবে গত কিছু বছর ধরে, হাঁড়িভাঙা আমের সাথে সাথে লিচু উৎপাদনে রংপুরের কৃষকেরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎপাদিত লিচু স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। বাজারে আসা লিচুর প্রায় ৯৫ শতাংশই রংপুরের উৎপাদিত, এটি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরারা।
দিনাজপুরের লিচু এখনও পুরোপুরি বাজারে না আসার কারণে বর্তমানে রংপুরের লিচুর চাহিদা তুঙ্গে অবস্থানে রয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে নগরীর সিটি বাজার ও আশপাশের এলাকায় পাইকারি ও খুচরা লিচুর জমজমাট বেচাকেনা চলমান অবস্থায় রয়েছে। এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রায় একশ জন ব্যবসায়ী। বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে হাড়িয়া ও মাদ্রাজি জাতের লিচু।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানানো হয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮২৭ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১০ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন উৎপাদন হওয়ার ফলে মোট উৎপাদন দাঁড়াচ্ছে ৮ হাজার ৬৬ মেট্রিক টন। এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।
রংপুরে উৎপাদিত প্রধান লিচুর জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে হাড়িয়া, চায়না-২, চায়না-৩ এবং মাদ্রাজি। এর মধ্যে হাড়িয়া ও মাদ্রাজি জাতের লিচুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “রংপুরে প্রতিবছর লিচুর উৎপাদন বাড়ছে। অনেক কৃষক এখন আমের বাগানের মতো লিচুর বাগান গড়ে তুলে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।”
এক পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস মিয়া জানান, তারাগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রচুর লিচু উৎপাদন করা হচ্ছে। তারা সরাসরি বাগান থেকে লিচু কিনে পাইকারি বাজারে বিক্রি করছেন। বর্তমানে প্রতি হাজার লিচু আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, “দিনাজপুরের লিচু এখনও বাজারে আসেনি। তাই দিনাজপুরের লিচু বাজারে ওঠার আগ পর্যন্ত রংপুরের লিচুর বিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে।”
বাংলা একাডেমির সহপরিচালক ও বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না মন্তব্য করেন, “বাজারে টকটকে লাল রঙের লিচু কিনতে গিয়ে অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন। ভালো লিচু শুধু গাঢ় লাল হয় না, বরং লাল ও সবুজের মিশ্রণযুক্ত লিচু সাধারণত বেশি সুস্বাদু হয়। অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করে লিচুকে আকর্ষণীয় করা হয়। তাই কেনার আগে লিচুর রঙ ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত।”
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও বায়োকেমিস্ট ডা. মোস্তারী বেগম মিতা বলেন, “লিচুর মৌসুমে শিশুদের বিষয়ে অভিভাবকদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। শিশুরা একা একা লিচু খেতে গিয়ে বিচি গলায় আটকে ফেলতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত লিচু খেলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা খালি পেটে বেশি লিচু খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যেতে পারে, যা মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন