প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্প্রতি স্পেনের বার্সেলোনায় নজিরবিহীন এক দৃশ্যের উন্মোচন ঘটেছে। গত ২০ জুন রাত সাড়ে ৮টায় শহরের একটি চমৎকার শৈল্পিক পরিবেশনায় একদল শিল্পী প্রদর্শনী আয়োজন করেছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশ থেকে প্রকৃত অর্থে কবিতার বোমাবর্ষণ করা হয়েছে; এক লাখের বেশি কবিতা বাতাসে উড়ানো হয়েছে। কবিতাগুলোতে মানুষ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে স্থান পেয়েছে।
অন্য দিনের মতোই ওই সময় বার্সেলোনা ক্যাথেড্রাল এলাকা লোকে লোকারণ্য ছিল। হঠাৎ একটি কালো হেলিকপ্টার মাথার ওপর চক্কর দিতে শুরু করে। এরপর আকাশ থেকে পড়তে থাকে অসংখ্য লম্বা সাদা কাগজ। আকাশের দিক থেকে সেগুলো পড়ে যাচ্ছে, এটা দেখতে মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। কেউ রাস্তা থেকে কাগজগুলো কুড়িয়ে নেয়, আবার কেউ লাফ দিয়ে কাগজ ধরার চেষ্টা করে। অনেকে এই অদ্ভুত ঘটনার ভিডিও ক্যামেরায় বন্দী করে, এবং পরবর্তীতে সেই ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়।
মূলত চিলির শিল্পগোষ্ঠী কাসাগ্রান্ডে এই প্রদর্শনীটি আয়োজন করেছে। প্রদর্শনীর নাম রাখা হয়েছে ‘বম্বিং অব পোয়েমস’, অর্থাৎ ‘কবিতার বোমাবর্ষণ’। এই দলটি এর আগে পৃথিবীর আরও ৯টি শহরে এরূপ করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য হলো অতীতের যুদ্ধের ভয়াবহতাকে স্মরণ করা ও বোমার বদলে কবিতা দিয়ে আকাশটাকে শান্তি ও ভালোবাসায় নতুন করে সাজানো।
এই আয়োজনের অনুপ্রেরণা মূলত স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধের সময় বার্সেলোনা শহরের ওপর হওয়া ঐতিহাসিক বোমাবর্ষণ। শিল্পগোষ্ঠী কাসাগ্রান্ডে সেই ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের স্মরণ করতে কবিতার বোমাবর্ষণের আইডিয়া কাজে লাগিয়েছে। তাদের বিশ্বাস, ইতিহাসের স্মৃতি ভুলে যাওয়ার গুরুত্ব অনেক বেশি। সংস্কৃতি মানুষের মনের ক্ষত দূর করতে পারে এবং শিল্পে যুদ্ধের ক্ষতবিক্ষত স্থানগুলোকে ভালোবাসায় ভরিয়ে তোলা যায়।
প্রদর্শনীর জন্য কাসাগ্রান্ডে শিল্পগোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বার্সেলোনা ক্যাথেড্রাল এলাকাটিকে নির্বাচন করেছে। কারণ, ১৯৩০ সালে গৃহযুদ্ধে এই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ ও ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছিল। স্পেনের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তারা এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নেয়। এক সময়ের যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরকে আজ নতুন করে শান্তি ও সংস্কৃতির একটি শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
শহরের অনেক লোক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এই আয়োজন স্থানীয় মানুষের কাছে অত্যন্ত আবেগের। এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিশাল। ৯ দশক আগে, ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধের সময় বার্সেলোনা শহরে ১ হাজার ৯০৩ বার বোমা হামলা হয়েছিল। সেই মারাত্মক হামলায় ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং প্রায় ৭ হাজার জন আহত হন। ১৯৩৮ সালে এই এলাকায় দুবার ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। প্রথম হামলায় ২০ জন শিশুসহ ৪২ জন মানুষ মারা যান। তার মাত্র কয়েক মাস পরে আবার একই অঞ্চলে হামলা হয়, যা শত শত মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়।
এত বছর পর সেই শহরের আকাশ থেকে কবিতার মাধ্যমে বোমাকে বদলে ফেলা হয়েছে। মানুষের স্বাধীনতা এবং পুরোনো স্মৃতি, ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের নানা ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছে স্প্যানিশ ও কাতালান ভাষায় লেখা কবিতাগুলোর মধ্যে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন