প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। এই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। হামলার সময় প্রাসাদে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও, ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে যে তাঁরা নিরাপদে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত আল-মাশিক প্রাসাদে এই হামলা সংঘটিত হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-ইরিয়ানি জানিয়েছেন, প্রাসাদ লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলায় প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে নিহত ও আহতদের মধ্যে প্রাসাদ কমপ্লেক্সের নিরাপত্তাকর্মী এবং বেসামরিক কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হামলার পর প্রাসাদ এলাকায় ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
এদিকে, হুতি বিদ্রোহীরা হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাসাদ কমপ্লেক্সে সৌদি কর্মকর্তাদের পরিচালিত সামরিক অভিযানের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ ধরনের হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, ইয়েমেনের মারিব প্রদেশেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রদেশটির আবাসিক এলাকাগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে। তবে হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী এবং হুতি যোদ্ধাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করার পর, দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দক্ষিণাঞ্চলীয় এডেনকে তাদের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। সরকারকে সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে প্রতিবেশী সৌদি আরব।
অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সংঘাত দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলায় ইয়েমেনের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন