প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ককে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা পাচার চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পাচারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী চক্র, যারা নির্দিষ্ট সড়কপথকে কার্যত ‘টেন্ডার’ দিয়ে পাচারকারীদের কাছে লিজ দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিনিময়ে প্রতিদিন আদায় করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বরিশাল নগরীর দপদপিয়া সেতু থেকে গড়িয়ার পাড় পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কপথ রেণু পোনা পাচারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এ রুটে প্রতিদিন ২০ হাজার টাকা চাঁদার বিনিময়ে পাচার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার অবৈধ রেণু পোনা বিভিন্ন জেলায় পাচার হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাচারচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি জানান, এ চাঁদাবাজি ও পাচার কার্যক্রমের নেতৃত্বে রয়েছেন মহানগর যুবদলের এক নেতা। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন নগরীর পলাশপুর এলাকার আড়তদার মোহাম্মদ রনি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে এ ব্যবসায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পোর্ট রোড এলাকার আড়তদার মোহাম্মদ রনি ও গোপালগঞ্জের টুলুকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হচ্ছে পাচার নেটওয়ার্কের বড় অংশ। তাদের সহযোগী হিসেবে কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী এবং ফেরিঘাটকেন্দ্রিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত হারে চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে পাচার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পাচার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে টুলুকে মারধর করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন রনি। পরে টুলু কারামুক্ত হওয়ার পর উভয়ের মধ্যে সমঝোতা হয়। এ নিয়ে বরিশাল নগরীর কয়েকটি আবাসিক হোটেলে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিদিন ২০ হাজার টাকা চাঁদা পরিশোধের শর্তে টুলু রেণু পোনা পরিবহনের দায়িত্ব নেবে। রুটে যেকোনো ধরনের খরচ ও ব্যবস্থাপনার দায়ভারও তার ওপর বর্তাবে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব বৈঠকের ছবি ও ভিডিও রয়েছে, যা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতার ইঙ্গিত দেয়।
জানা গেছে, ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা রেণু পোনা বিভিন্ন নদীপথ ও ফেরিঘাট ব্যবহার করে বরিশালে আনা হয়। এরপর ট্রাকে করে খুলনা ও বাগেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হয়। এ কাজে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক কর্মী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, “এ ধরনের অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে দলে স্থান দেওয়া হবে না।”
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আশিক সাঈদ বলেন, “রেণু পোনা পাচারের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য দফতরের পরিচালক মো. কামরুল হাসান বলেন, “বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা সংগ্রহের সময় অসংখ্য জলজ প্রাণী ধ্বংস হয়। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার রেণু শিকার নিষিদ্ধ করেছে। তবুও একটি চক্র গোপনে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন