প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহ, ১৪ আগস্ট, ২০২৬: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছে। সরকার খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ জাতি গঠন, মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী আজ শুক্রবার বিকেলে ময়মনসিংহ অফিসার্স ক্লাবে শহরের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের টার্ফ ফুটবল মাঠ ‘দ্য স্পোর্টিভা’- এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুসারে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’সহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের ডিভাইসের প্রতি আসক্তি থেকে দূরে রাখা সম্ভব এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১০ থেকে ১৪ বছরের কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার কার্যক্রমের প্রথম আসর সফলভাবে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় আসরের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। এবার ১০টি ইভেন্টে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে দল গঠন করা হবে। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের দিকে দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একইসাথে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ন্যায় খাল খনন কর্মসূচিও বর্তমান সরকার শুরু করেছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে যাতে তীব্র গরম থেকে রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষিত হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
ময়মনসিংহে ক্রীড়া অবকাঠামো প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারা দেশের ২২টি জেলায় অবস্থিত সুইমিং পুলগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ময়মনসিংহের সুইমিং পুলের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজকর্ম এগিয়ে নেওয়া হবে। শিশুদের সাঁতার শেখানোর মাধ্যমেও তারা শারীরিক এবং মানসিক বিকাশ ঘটাতে পারবে, পাশাপাশি পানিতে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রত্যেক জেলায় নতুন অবকাঠামো তৈরি না করে বিদ্যমান ক্রীড়া অবকাঠামোগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আট বিঘা জমি না হলেও ছোট পরিসরের উপযুক্ত জায়গাকে মাঠ হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছর পর দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ থাকবে এটাই সরকারের লক্ষ্য।
ময়মনসিংহে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, নদীর ওপারে প্রায় ৩৫ একর জায়গাকেও ক্রীড়া কার্যক্রমে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা যেতে পারে। আগামী পাঁচ বছর পর অলিম্পিকের সর্বোচ্চ আসরে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পদকের জন্য লড়াই করতে সরকার ব্যাপকভাবে কাজ করছে।
প্রতিবন্ধী সন্তানদের অবহেলা না করে তাদের ক্রীড়াক্ষেত্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্য থেকেও অলিম্পিক এবং প্যারা অলিম্পিকে পদক জয় করার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্যারা ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ, ৬৪টি জেলায় ক্রীড়া অবকাঠামো, প্রায় ৫০৩টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়ামের কার্যক্রম এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
বক্তব্য শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক টার্ফ ফুটবল মাঠ ‘দ্য স্পোর্টিভা’র উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবুল, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, দ্য স্পোর্টিভার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফেরদৌস।
এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড়, ফুটবলপ্রেমী, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে, টার্ফ ফুটবল মাঠে ২০০৩ সালে সাফ গোল্ডকাপ (সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ) স্বর্ণপদক জয়ী দলের সাথে প্রতিমন্ত্রী প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশগ্রহণ করেন। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং সিটি প্রশাসক অংশ নেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন