প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে আমদানি করা ড্রোন এবং তার যন্ত্রাংশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবারের দেওয়া এক ঘোষণায় হোয়াইট হাউস জানায়, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে। উল্লেখযোগ্য কিছু ড্রোন আমদানির ক্ষেত্রে শতভাগ শুল্ক বসানো হবে।
এদিকে, সংবাদ এএফপি'র মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যেসব ড্রোনের ‘উড্ডয়ন ওজন ২৫ কেজির বেশি এবং থার্মাল ক্যামেরা ও ডকিং স্টেশনের মতো জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সক্ষমতা রয়েছে, সেগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে, ছোট ড্রোনগুলোর ক্ষেত্রে শুল্ক হার ২৫ শতাংশ হবে।
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, এসব শুল্ক আরোপের ফলে দেশীয়ভাবে ড্রোন এবং এর যন্ত্রাংশের উৎপাদন বাড়বে এবং বিদেশি সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমবে।
নতুন এ শুল্কের বেশিরভাগই কার্যকর হবে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) এক জ্যেষ্ঠ ফেলো ক্লেটন সোয়োপ মন্তব্য করেছেন, ‘এই শুল্ক মূলত শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত ড্রোনকে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম মাত্রায় শখের কাজে ব্যবহৃত ছোট ড্রোনও এর আওতাভুক্ত হতে পারে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) বলেছিল যে, দেশীয় ড্রোন উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে সরাসরি ড্রোন হামলার নির্বিৎকরণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্ন, অনুমোদনহীন নজরদারি, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য ড্রোন-সম্পর্কিত হুমকি কমানো সম্ভব হবে।
এফসিসি টীকা দিয়েছে, ড্রোন ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ প্রযুক্তি। অর্থাৎ, এগুলো বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি সামরিক বা আধাসামরিক পর্যবেক্ষণ এবং অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিদেশে ড্রোন ও এর যন্ত্রাংশ উৎপাদনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি, তথ্য চুরি এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে, এই সতর্কতা দেয়েছিল এফসিসি।
ইউক্রেনের যুদ্ধ এই বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, বাণিজ্যিক ও শখের কাজে ব্যবহৃত ড্রোনগুলোকে কীভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
চীনের ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডিজেআই ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের ড্রোন বাজারের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি দখল করেছে। একাধিক গবেষণায় এ বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছর ধরে ওয়াশিংটনের নজরদারির মধ্যে রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, চীনে বিশেষ করে উইঘুরদের ওপর নজরদারিতে ডিজেআইয়ের উৎপাদন ব্যবহার করা হয়েছে।
২০২২ সাল থেকে ডিজেআই এমন একটি মার্কিন তালিকায় রয়েছে, যেখানে চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই কারণে মার্কিন প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।
ডিজেআই ২০২৪ সালে ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে বলেছে, প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ চীনের সামরিক বাহিনীর হাতে নেই।
ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক কর্মকর্তা ও সরবরাহব্যবস্থা বিশেষজ্ঞ জোশুয়া স্টেইনম্যান এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘চীনের কোনো যন্ত্রাংশ, এমনকি কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ড্রোন তৈরি করতে পারার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বাণিজ্য উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেয় এবং ছয়টি কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করে। ওয়াশিংটনের আরোপিত জোরপূর্বক শ্রম ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বেইজিং এটি করেছে।
এর কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র চীনসহ ৫৯টি দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছিল।
এদিকে, চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মানবসদৃশ ও চার পায়ে চলা রোবটকেও যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য ও কোম্পানির কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এসব প্রযুক্তি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।
ড্রোনের মতো রোবট তৈরির ক্ষেত্রে চীনা শিল্পের বিস্তার গত কিছু বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন