প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি বরাবরই উত্তেজনাপূর্ণ। বারুইপুরে মুসলিম কন্যাশিশুকে গণধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় এই উত্তেজনা অনেক বেড়েছে। তবে সেই উত্তেজনার মাঝে এবার বিপরীতদিক থেকে আগুনে ঘি ঢাললেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি তাঁর মন্তব্যের প্রতিটি অংশে মুসলিমদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একই সুরে এই স্পর্শকাতর বিষয়গুলি নিয়ে বাংলাদেশের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সরব হয়েছেন।
দিলীপর অভিযোগ, মুসলিম বলেই নাকি এমন আন্দোলন হচ্ছে। বিরোধী দলের নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দিলীপ বলেন, এই রাজ্যে আন্দোলন অথবা প্রতিবাদের ভাষা নির্ভর করে আক্রান্তের পরিচয়ের ওপর। তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর রাজনৈতিক নেতারা কেবল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত এলেই তখনই পথে নামেন।
তিনি নির্দেশ দেন যে, মুসলিম বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো বিষয় হলেই যে রকম রাস্তায় নেমে আন্দোলন করা হয়, হিন্দু নারী বা বিজেপি কর্মীদের হত্যা ও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় সেই একই প্রতিবাদীরা আশ্চর্যজনকভাবে নীরব থাকেন। তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে এই আন্দোলনগুলো পরিচালিত হয়।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, দিলীপ ঘোষের কণ্ঠে শোনা গেছে বিরোধীদলের বিরুদ্ধে দম্ভোক্তিমূলক সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি না করে এই সব ‘ড্রামা’ বন্ধ করতে হবে। তার দাবি, রাজ্যের পুলিশের রূপ এখন পাল্টে গেছে। কাকে কীভাবে ‘সোজা’ করতে হবে তা তাদের খুব ভালো করেই জানা আছে বলেও আত্মবিশ্বাসের সুরে জানান তিনি।
রাজ্যের স্তব্ধ হয়ে থাকা পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আক্রমণ করেছেন এই বিজেপি নেতা। তিনি বলেছেন, বহু তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানরা অফিসে যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তার কড়া আল্টিমেটাম হলো— বা কাজ করতে হবে মানুষের সেবা করতে, না হয় ইস্তফা দিতে হবে। অন্যথায় তিনি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ার পাশাপাশি, কোমরে দড়ি পরিয়ে বাড়ি থেকে টেনে আনার মতো কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন দিলীপ। বিশেষত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক নির্যাতিতার মায়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার ঘটনাকে তিনি সুপ্রিম কোর্ট ও জাতীয় মহিলা কমিশনের নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন এবং কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
এদিকে আন্দোলনকারীদেরকে তাণ্ডবকারী বলেন তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শুভেন্দু। দিলীপ ঘোষের পাশাপাশি, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন শুভেন্দু। সম্প্রতি পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর এবং রেললাইন উপড়ে ফেলার যে অভিযোগ এসেছে, সেই প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিছেন তিনি। শুভেন্দু জানিয়েছেন, ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে ইতোমধ্যেই ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, এর নেপথ্যে থাকা উস্কানিদাতাদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই অশান্তির নেপথ্যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে দাবি করে, নাম উল্লেখ না করে তৃণমূল ও সিপিএম-কে নিশানা করেছেন তিনি। তার কথায়, যারা তাণ্ডব চালিয়েছে তাদের কাউকে রেয়াত না করার জন্য তিনি পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এই অশান্তিতে তিনজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের দেখতে তিনি বারুইপুর থেকে সরাসরি হাসপাতালে যান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন