প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মৌলভীবাজারে চলতি বোরো মৌসুমের মধ্যে আগাম ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হওয়া ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আউশ ধান চাষাবাদে মনোযোগী হয়েছেন জেলার কৃষকেরা। জেলার বিভিন্ন হাওড় পাড়সহ বিস্তীর্ণ স্থানে আউশ চারা রোপণের কাজ ইতিমধ্যে পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। চাষিদের এই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে আউশের আবাদ বাড়াতে বিভিন্ন প্রকারের কারিগরি ও প্রণোদনা সহায়তা প্রদান করছে জেলা কৃষি বিভাগ।
সরেজমিনে চলে আসা পরিস্থিতি নির্দেশ করে দেখা গেছে, চলতি বর্ষায় আবহাওয়া আউশ চাষাবাদের জন্য সম্পূর্ণ অনুকূলে থাকায় মাঠজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমি প্রস্তুত করা এবং হালি চারা রোপণের কর্মযজ্ঞে মুখর হয়ে উঠেছে ফসলের মাঠ।
স্থানীয় চাষি ও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কিছুদিন আগে মৌলভীবাজার অঞ্চলে ব্যাপকভাবে আউশ ধানের চাষ হতো। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে প্রতিবছর ফসল নষ্ট হওয়ার ফলস্বরূপ কৃষকেরা আউশ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বছরের বোরো মৌসুমে উপর্যুপরি লসের প্রতিকার হিসেবে এবং কৃষি বিভাগের বিশেষ উদ্যোগের ফলে আবারও আউশের সুদিন ফিরছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরে জেলায় আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৬৮৪ হেক্টর অতিরিক্ত জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। বৈরী কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে, হেক্টর প্রতি গড়ে ২ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। পুরো জেলায় কমবেশি আউশের চাষ হলেও, সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে জুড়ী, বড়লেখা, কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল এবং কমলগঞ্জ উপজেলায়।
শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওড় পাড়ের উদনার পাড় গ্রামের আউশ চাষি নাছিমা আক্তার, মনছুর আলী, সুজন মিয়া ও জয়নাল সময় সংবাদকে বলেন, 'এ বছর আগাম পাহাড়ি ঢলে আমাদের বোরো ফসল পুরোটাই তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা একদম নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলাম। পরে কৃষি বিভাগ থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়ায় আমরা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছি। এখন আবহাওয়া ভালো থাকায় দুই-তিন কিয়ার (বিঘা) জমিতে আউশ চারা রোপণ করছি। আশা করছি এবার ভালো ফলন পাব।'
কৃষিবিদ মো. সেলিম হোসেন আরও জানান, বোরো ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার চাষিদের মাঝে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল আউশ বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি এই প্রণোদনা পাওয়ার ফলে প্রান্তিক চাষিরা দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. জালাল উদ্দিন বলেন, 'চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ৩৮ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হলেও ঢলের কারণে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এবং চালের উৎপাদন বাড়াতে আমরা আউশ চাষে সর্বোচ্চ জোর দিয়েছি। আউশের আবাদ বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছেন।'
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া সম্পূর্ণ অনুকূলে রয়েছে। যদি কোনো বড় ধরনের আগাম বন্যা বা বৈরী পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, তবে চলতি মৌসুমে জেলায় আউশের বাম্পার ফলন হবে এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১ লাখ ১১ হাজার ১০১ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন