প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী এলাকায় এক গৃহবধূর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের সূত্র ধরে গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগে নূর আলম শেখ (৩২) নামে এক ধর্মীয় শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার (১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীনগর উপজেলার একটি মাদরাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া নূর আলম শেখ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তেলিগাতী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি টংগিবাড়ী উপজেলার একটি জামে মসজিদে প্রায় ১৮ মাস ধরে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি, তিনি স্থানীয় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, একপর্যায়ে ওই শিশুর মায়ের সঙ্গে নূর আলমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করেন।
প্রায় এক মাস আগে বিষয়টি জানাজানি হলে মসজিদ কমিটি তাকে ইমামতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। এরপর থেকে নূর আলম ওই গৃহবধূকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে দেখা করার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের ধারণ করা একটি আপত্তিকর ভিডিও অনলাইনে ওই গৃহবধূর পরিবারের এক সদস্যের কাছে পাঠিয়ে দেন। একই সঙ্গে, তার সঙ্গে দেখা না করলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় সংবাদ পাওয়ার পর রোববার বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএমের সার্বিক নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেনের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান শুরু করে। পুলিশ পরিদর্শক অর্জুন কুমার দাশ, উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বিপিএম ও উপ-পরিদর্শক (ওসি) রেজাউল কাজীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলা পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নূর আলম অভিযোগের বিষয়গুলো স্বীকার করেছেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং চার সন্তানের জনক। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে টংগিবাড়ী থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন