প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মঙ্গলবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সফরের মাধ্যমে হাইতির মানুষের প্রতি সংহতি জানাতে যাচ্ছেন।
এই দরিদ্র ক্যারিবীয় দেশটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটে ভোগে এবং গ্যাং সহিংসতার শিকার মানুষের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করবেন।
মহাসচিবের কার্যালয় ঘোষণা করেছে যে, গুতেরেসের ২০২৩ সালের জুলাই মাসের পোর্ট-অ-প্রিন্স সফরের পর এবার সেখানকার নারী, পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলবেন যাঁরা সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
এএফপি জানাচ্ছে, মহাসচিব তার সফরের সময় সরাসরি দেশের মানবিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। তিনি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য জাতীয় কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টাও দশার করবেন।
হাইতি, আমেরিকা মহাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হিসেবে বহু বছর ধরে অস্থিরতায় ভুগছে। দেশটিতে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অপহরণ চালিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, হাইতির মোট জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ, যেখানে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে রয়েছে এবং ৫০ লক্ষাধিক মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের মুখোমুখি।
২০২৪ সালের শুরুর দিকে নিরাপত্তা সংকট আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেই সময় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক সহিংসতায় দেশের অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।
তার স্থলাভিষিক্ত হয় একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওই কাউন্সিলের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-এমের হাতে ন্যস্ত হয়।
নিরাপত্তাহীনতার কারণে ২০১৬ সালের পর হাইতিতে কোনো নির্বাচন হয়নি।
গত বছর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ নতুন একটি আন্তর্জাতিক গ্যাং দমন বাহিনী গঠনের অনুমোদন দেয়। এই বাহিনীকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিষ্ক্রিয় করার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
নতুন বাহিনী ধীরে ধীরে হাইতির পুলিশকে সহায়তা প্রদানকারী আগের বহুজাতিক মিশনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যাবে, যেটি পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও অর্থের অভাবে সমালোচনার মুখে ছিল।
ফারহান হক জানান, গুতেরেস হাইতির বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন, যেখানে গ্যাং দমন বাহিনীকে প্রদান করা লজিস্টিক ও পরিচালনাগত সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সফরের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গুতেরেসের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভল্কার তুর্ক সোমবার বলেন, নতুন গ্যাং দমন বাহিনী জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন।
তিনি হাইতির কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান যে, দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছরের শুরু থেকে হাইতিতে গ্যাং সহিংসতায় অন্তত ২ হাজার ৩০০ জন নিহত, ১ হাজার ১০০ জন আহত এবং ৯৯ জন অপহৃত হয়েছেন। বিচারিক ইউনিটগুলোকে দ্রুত সক্রিয় করার জন্য কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন