প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানী মিরপুরের কাফরুল এলাকায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে এক যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী (৪৫) নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার পর মিরপুর-১৩, ই-ব্লক, ওপেক্স গার্মেন্টসের সামনে এই ঘটনা ঘটে। পরে ইউসুফ আলীকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ইউসুফ আলীর বাড়ি বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার সাকরাল গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত শাহজাহান। তিনি নিজের পরিবার নিয়ে মিরপুরের কাফরুলে বসবাস করতেন।
নিহতের রাজনৈতিক সহকর্মী মামুন বলেন, রাত ১১টার দিকে আমি ইউসুফ ভাইসহ আরও দুইজন সহকর্মী মিরপুর-১৩, ই-ব্লক, ওপেক্স গার্মেন্টসের সামনে চা খেতে খেতে আড্ডা দিচ্ছিলাম। আমাদের তিনজনকে লক্ষ্য করে অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন যুবক আশপাশে ঘুরছিল। তাদের গতিবিধি দেখে আমাদের সন্দেহ হয়।
এক পর্যায়ে ইউসুফ ভাই তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমরা কারা, তোমাদের বাসা কোথায়? তোমরা আমাদেরকে ঘিরে এভাবে ঘুরছ কেন?’
উত্তরে তারা জানায়, তাদের বাড়ি মিরপুর ১০-এ।
তারপর তারা চলে যেতে চাইলে ইউসুফ ভাই একজনকে বলেন, ‘দাঁড়াও’।
এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ইউসুফ ভাই ওই যুবককে জাপটে ধরলে সে কোমর থেকে পিস্তল বের করে ইউসুফের বুকে গুলি করে। এতে ইউসুফ ভাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় হামলাকারীরা গুলি করতে করতে পালিয়ে যাওয়া সময় আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে আমরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ ইউসুফ ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ অন্য দুজনের মধ্যে একজনের মাথায় এবং অন্যজনের পায়ে গুলি লাগে। তারা এখন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
মামুন বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় জনতা একজনকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। পরে তার নাম জানা যায় চঞ্চল।
নিহতের বড় ভাই কান্নাভরা গলায় বলেন, শেখ হাসিনার আমলে যদি আমার ভাই গুলি খেত, তাহলে এত খারাপ লাগত না। এখন বিএনপি ক্ষমতায় থেকেও যদি একজন যুবদল কর্মীর এভাবে মৃত্যু হয়, তা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান বাবু বলেন, আমি কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিলাম। একটি ছেলে আমার সামনে দিয়ে দুইবার যাতায়াত করলেও আমি বিষয়টি আমলে নেইনি।
ইউসুফ তখন সুজন নামে একজনকে বলছিল, ‘এই ছেলেগুলোর গতিবিধি সন্দেহজনক, ভাইকে একটু নক দে’।
তখন সুজন ফোন করে বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ক্যাপ পরা এক যুবককে চেনেন কি না জানতে চান। আমি তাদের চিনি না বলে অনুরোধ জানাই। পরে আরও দুই যুবকের বিষয়ে জানতে চাইলে তাদের কাউকেই চিনতে পারছিন না বলে জানাই। ফোনে কথা বলার সময় ক্যাপ পরা যুবকের সঙ্গে আমার চোখাচোখি হলে, এরপর ওই ব্যক্তি দ্রুত সরে যেতে শুরু করলে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়।
হাফিজুর রহমান বলেন, তখন আমি সুজনকে ওই যুবকদের আটক করার চেষ্টা করতে বলি। পরে সুজন, ইউসুফ ও মামুন এগিয়ে গিয়ে তাদের পরিচয় জানতে চান। তখন তারা জানায় তাদের বাসা মিরপুর ১০ নম্বরে। এক পর্যায়ে ক্যাপ পরা যুবক কোমরের দিকে হাত দিলে ইউসুফ তাকে জাপটে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় ওই যুবক খুব কাছ থেকে ইউসুফের বুকে গুলি করে। ইউসুফ মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারী আরও দুই রাউন্ড গুলি চালায়। এ ঘটনায় কাছাকাছি থাকা একজন পথচারী ও একজন সবজি বিক্রেতা গুলিবিদ্ধ হন।
তিনি বলেন, পরে মামুন একটি কাঠের টুল ছুড়ে মারলে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। তাদের ধাওয়া করা হলে তারা আরও কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে সেখান থেকে চঞ্চল নামে একজনকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। আমি সাথে সাথে পুলিশকে জানালে তারা এসে ওই যুবককে হেফাজতে নেয়।
কী কারণে তাকে টার্গেট করা হয়েছিল অথবা কোনো কোন্দল ছিল কি না জানতে চাইলে হাফিজুর রহমান বাবু বলেন, আমার সঙ্গে কারও কোন্দল নেই। অন্য কেউ আমাকে পথের কাঁটা ভাবছে কি না, সে বিষয়টি তো আর আমি বলতে পারবো না। আমাকে হত্যা করার জন্য ঝিনাইদহ থেকে চারজন শুটারকে ভাড়া করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাফিজুর রহমান বাবুকেই এই ঘটনায় টার্গেট করা হয়েছিল। তবে কী কারণে শুটার ভাড়া করে তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, সে বিষয়টি এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চঞ্চলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ইউসুফ হত্যায়ও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছে তার পরিবার।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্তের পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনা গুলিবিদ্ধ নালাম সরদারের (৪৫) গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানার হুগলাবুনিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম ইয়াসিন সরদার। তার পেশা কাঁচামাল ব্যবসায়ী এবং তার মাথার পেছনে গুলি লেগেছে।
অন্য গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি মনির হোসেনের (৩২) গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর থানায়। তার বাবার নাম মালেক شিকদার। তিনি ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী।
কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গুলির ঘটনায় কাফরুল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। ইউসুফের পরিবার থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে বেশ কয়েকজনের নাম রয়েছে। অন্যদিকে চঞ্চলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আলাদা মামলা হয়।
ঘটনার পেছনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এর পেছনের মূল কারণ জানা যায়নি। আমাদের কাছে শুধু চঞ্চল গ্রেপ্তার রয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন