প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে যেভাবে আলবিসেলেস্তেরা জাল অক্ষত রেখেছিল, সে দুর্ভেদ্য রক্ষণের পরীক্ষা অবশেষে শুরু হলো। চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো গোলের দেখা পেল আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ। জর্ডানের এক চমৎকার ও পরিকল্পিত আক্রমণে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষককে পরাজিত হতে হলো, যা এই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার পোস্টের পেছনে থাকা জালকে প্রথমবারের মতো স্পর্শ করল। তবে রক্ষণভাগের এই হঠাৎ গোল হজমের ধাক্কা সামলে লিওনেল মেসির রেকর্ড গড়া ফ্রি-কিকে শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে জর্ডানকে হারিয়ে মাঠ ত্যাগ করেছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
রোববার (২৮ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে লিওনেল স্কালোনির দল জর্ডানের মুখোমুখি হয়। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ম্যাচের প্রথমার্ধে সামান্য হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে অধিনায়ক মেসিকে বেঞ্চে রেখে একাদশ সাজান কোচ। তবে তাকে বিশ্রামে রেখেও প্রথমার্ধে দাপুটে ফুটবল উপহার দিয়ে দুই গোলের স্বস্তির লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণে আর্জেন্টিনা একচেটিয়া আধিপত্য দেখাতে থাকে। ১৯ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে গোল উৎসবের সূচনা করেন জিওভানি লো সেলসো। মেসির অনুপস্থিতিতে তার বাঁ পায়ের নিখুঁত শট জর্ডানের গোলরক্ষককে পরাস্ত করলে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে এগিয়ে যায়।
তারপর ম্যাচের ৩০ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে জর্ডানের আল-রাশদান বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে মার্কোস সেনেসির মুখে বুট মারেন। ভিএআর পর্যালোচনা করে রেফারি আর্জেন্টিনার পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ৩১ মিনিটে স্পটকিক থেকে কোনো ভুল করেননি লাওতারো মার্তিনেজ। জর্ডানের গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠিয়ে নিচের বাঁ কোণে বল জড়িয়ে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান এই স্ট্রাইকার। তার গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর কিছুটা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে জর্ডান। আজাইজেহ ও তাহার কয়েকটি প্রচেষ্টা থাকলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ তা নসাৎ করে দেয়। ফলে ২-০ গোলের ব্যবধানেই শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার দখলে। ৪৮ মিনিটে লো সেলসো আরও একটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায়। তবে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ কিছুটা মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। ঠিক সেই মুহূর্তে টাচলাইনে লিওনেল মেসি মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অধিনায়কের বদলি হিসেবে মাঠে নামার এই আয়োজন করতে গিয়ে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা কিছুটা মনোযোগ হারিয়ে ফেলে।
আর সেই সুযোগটাই লুফে নেয় জর্ডান। ডান প্রান্তে বল পেয়ে এহসান হাদ্দাদ নিচু ক্রস বাড়ান বক্সের ভেতরে। সেখানে বদলি খেলোয়াড় মুসা আল-তামারি দ্রুত পৌঁছে সহজ টোকায় বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান ২-১ করেন। এই গোলের মাধ্যমে এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো গোল হজম করে আর্জেন্টিনা।
জর্ডানের এই গোলের ঠিক পরই ম্যাচের ৬০ মিনিটে বেঞ্চ থেকে উঠে সবুজ গালিচায় পা রাখেন আর্জেন্টাইন তারকা। এরপর ম্যাচের ৮০ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার নিজস্ব ট্রেডমার্ক ফ্রি-কিকে চোখধাঁধানো এক গোল করেন। এই অতিমানবীয় গোলের ওপর ভিত্তি করে ম্যাচে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা ৭ ম্যাচে গোল করার একটি অনন্য এবং অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড নিজেদের করে নেন মেসি। এর আগে তিনি টানা ৬ ম্যাচে গোল করে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) এবং ব্রাজিলের জেয়ারজিনহোর (১৯৭০) সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন। আজ জর্ডানের বিপক্ষে গোল করে তাদের ছাড়িয়ে এককভাবে চূড়ায় উঠলেন মেসি। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের এই ব্যবধান ধরে রেখেই পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ত্যাগ করে স্কালোনির শিষ্যরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন