প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের ব্যাংকিং খাতের মধ্যে লুটপাট এবং জনগণের অর্থ বিদেশে পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন, অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২)-এর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য দেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারি এবং আর্থিক অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরকার এরই মধ্যে ব্যাপক আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে। আমি এ সংসদকে একাধিকবার জানিয়েছি কী কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক মামলা হয়েছে, তদন্ত এগিয়ে চলছে এবং অভিযুক্তদের অনেকের সম্পত্তি ক্রোক ও বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। সরকারের অভিযানে আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে কোনোভাবেই থামবে না।‘
যারা দেশের অর্থ লুট করেছে এবং বিদেশে পাচার করেছে, তাদের সঙ্গে বিএনপি কোনো আপস করবে না, তিনি পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেছিলেন, এ ধরনের অপরাধে জড়িত কারও সঙ্গে এই সরকার আপস করবে না এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
রুমিন ফারহানা সম্পূরক প্রশ্নে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের ক্রমবর্ধমান পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানতে চান, বড় ঋণখেলাপি এবং দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে দুর্বল করার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে নেয়া আইনগত, প্রশাসনিক ও তদন্তমূলক পদক্ষেপ সম্পর্কে সরকার এরই মধ্যে সংসদে ব্যাখ্যা দিয়েছে এবং যারা জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
অন্য এক সম্পূরক প্রশ্নে এনসিপির সংসদ সদস্য আতীকুর রহমান মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে অর্থমন্ত্রী ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে বলেন, ‘এই সরকারের আমলে বিএনপির কোনো লোকেরই কোনো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সুযোগ নেই। দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক নিয়োগমুক্ত রাখতে সরকার সচেতন নীতি গ্রহণ করেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগ দিচ্ছি না। এটি বিএনপি সরকারের একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। এমন কোনো ইচ্ছা বা সুযোগ কোনোটিই নেই। দীর্ঘদিনের সঞ্চিত নানা সমস্যার কারণে কয়েকটি ব্যাংক পরিচালনা ও সুশাসন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।’
সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক কার্যক্রমের ওপর সরকার ব্যাপক মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা পর্ষদ ও পরিচালন কাঠামো নিয়ে বিস্তৃত বিশ্লেষণ চলছে। মূল্যায়ন শেষ হলে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন