প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার ফলে গৃহহীন হয়ে পড়া ১০০টি পরিবারকে নতুন ঘর প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আগামী ৯ আগস্ট, রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সফরের সময় বাঁশখালীতে আয়োজিত একটি সমাবেশের মঞ্চে এইসব ঘরের চাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন।
বন্যার পানির তোড়ে গৃহহারা হয়ে পড়া পরিবারগুলো যখন সবকিছু হারিয়ে অসহায় অবস্থায় ছিল, ঠিক সেই সময়ে সরকারি ঘর দেওয়ার উদ্যোগ তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তারা সরকারের তরফ থেকে নির্মিত তাদের ভিটায় ভেঙে যাওয়া বাড়ির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে নতুন ঘরর চাবি গ্রহণ করতে উত্তেজিত।
তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন যে প্রধানমন্ত্রী তাদের সামনে এসে নতুন ঘরের চাবি বুঝিয়ে দেবেন এবং সেই সঙ্গে তাকে কাছ থেকে এক নজর দেখা উপলব্ধি হবে।
জেলা প্রশাসনের সূত্র জানাচ্ছে, বাঁশখালী পৌরসভা এবং ৯টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে ১০ জন করে মোট ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারি খরচে তাদের বাড়ি নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে বন্যার বিষয়টি মাথা থেকে বাদ না দিয়ে বাড়ি নির্মাণে আরসিসি পিলার, কাঠ এবং টিন ব্যবহৃত হচ্ছে। টিনের ঘেরা ও ছাউনি দেওয়া এসব বাড়িকে ‘দুর্যোগ সহনীয়’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ১৮ ফুট দৈর্ঘ্যে ও ১২ ফুট প্রস্থের প্রতিটি টিনের ঘরে দুটি করে কক্ষ থাকবে এবং এর সঙ্গে পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্য ও পাঁচ ফুট প্রস্থের একটি সংযুক্ত শৌচাগার থাকবে।
বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী বলেন, ‘বন্যার কারণে বাড়িঘর ভেঙে যাওয়া যে পরিবারগুলোর নতুন বাড়ি করার মতো সামর্থ্য নেই তাদেরকেই প্রধানমন্ত্রীর বাইরের ঘর দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন আজ বাসস’কে জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী রবিবার চট্টগ্রামের তিনটি উপজেলার সফর করবেন। এর মধ্যে বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারকে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে ইতোমধ্যে বাড়িগুলোর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।’
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন বাঁশখালী সফর এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য নির্মাণাধীন ঘরের কাজ পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন অনুষ্ঠানস্থল ও নির্মাণাধীন ঘরগুলো ঘুরে দেখেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নিয়ে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসক সেখানে মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা, অতিথিদের বসার স্থান এবং অনুষ্ঠানস্থলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আজ বাসসকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে চলছে। আমি বাঁশখালীর বাহারছড়ায় অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছি। তিনি অনুষ্ঠানের সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের জন্য প্রতিটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি দেওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘নির্মাণাধীন ঘরগুলোর কাঠামোগত স্থায়িত্ব ও কাজের মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও নির্মাণশ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচনা করে নতুন বাড়ি নির্মাণে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। আশাবাদী যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়িগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন