প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণরত এক ভারতীয় পর্যটকের ব্যয় সংক্রান্ত তুলনা নিয়ে নেট দুনিয়ায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আকৃতি পান্ডে নামের ওই নারী ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওতে ব্যয়ের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। ভিডিওর ক্যাপশনে আকৃতি উল্লেখ করেছেন, "রুপিতে আয় করে ডলারে খরচ করা এবং প্রতিটি খাবার ও ক্যাব ভাড়ার হিসাব রূপান্তর করা মানসিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।"
আকৃতি পান্ডে তার উদ্বেগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, "প্রতিটি খরচ ডলার থেকে ভারতীয় রুপিতে রূপান্তর করার কারণে ট্রিপটি আমার কাছে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং মানসিক চাপপূর্ণ মনে হয়েছে।" ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, "ভারতীয়দের জন্য পৃথিবীটা এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "সম্প্রতি মালয়েশিয়ান রিংগিত এবং থাই বাথের সঙ্গে ভারতীয় রুপির তুলনা করার পর, এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরো বেশি ব্যয়বহুল মনে হচ্ছে।" তিনি জানান, "এক মার্কিন ডলারের মূল্য প্রায় ৯৩ থেকে ৯৫ রুপির সমান এবং এই ট্রিপটি আমাকে নিজের জীবন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করছে।"
আকৃতি তার যাতায়াত খরচের কথাও উল্লেখ করেন এবং জানান যে, কিছু পরিস্থিতিতে গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রায় অস্তিত্বহীন মনে হয়েছে। তিনি শেয়ার করেন, "মধ্যরাতে পৌঁছানোর কারণে যাতায়াত খরচ অনেক বেশি হয়ে গিয়েছিল এবং শুধুমাত্র হোটেলে পৌঁছানোর জন্য আমাকে ৬৭ ডলার (প্রায় সাড়ে ৬ হাজার রুপি) দিতে হয়েছিল।" খাবার ও কফির দাম সম্পর্কে তিনি বলেন, "এখন কফি খাওয়া বন্ধ করার এটাই উপযুক্ত সময় বলে মনে হচ্ছে।" কারণ, "একটি সাধারণ দোকানে সাধারণ কফির দামও প্রায় তিন থেকে চার ডলার।" অথচ ভারতে মানুষ এই একই দামে বাদামের দুধসহ চমৎকার কফি বিন পেয়ে যেতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, "আমি এবং আমার সঙ্গীরা সকালের নাশতায় দোসা খেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বে এরিয়াতে তিনটি দোসার জন্য আমাদের ৫৭ ডলার খরচ করতে হয়েছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৩০০ রুপির সমান।" বিদেশ ভ্রমণের সময় খরচ ভারতীয় রুপিতে রূপান্তর না করার জন্য যাঁরা ভ্রমণকারীদের পরামর্শ দেন, আকৃতি তাঁদের উদ্দেশেও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "রুপিতে আয় করা একজন ব্যক্তি ডলারে খরচ করার সময় কিভাবে হিসাব রূপান্তর করা এড়িয়ে যেতে পারেন?" তিনি আরও যোগ করেন, "কম্পানির অর্থায়নে বা স্পন্সরশিপের মাধ্যমে খরচ মেটানো হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ অনেক সহজ হয়ে যায়।" অন্যথায়, এটি আর্থিক উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি আরও প্রশ্ন করেন, "অন্যরাও কি একই ধরণের অর্থ-সংক্রান্ত মানসিক চাপের মুখোমুখি হন?" এবং যোগ করেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত আমার বন্ধুরা সম্ভবত আমার এই উদ্বেগ দেখে হাসবেন।" আকৃতি পান্ডের এই ভাইরাল ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসার পর নেটিজেনদের মধ্যে বিতর্ক এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকে আকৃতির বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন এবং তাঁর এই আর্থিক উদ্বেগকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন।
অনেকে মন্তব্য করেছেন যে, রুপিতে আয় করে ডলারে খরচ করার সময় হিসাব রূপান্তর করাটা একটি মানসিক অভ্যাস। যখন দেখা যায় যে একটি সাধারণ খাবারের দাম ভারতে কয়েকদিনের খরচের সমান, তখন মনে চাপ পড়াটা স্বাভাবিক। বেশ কিছু নেটিজেন আকৃতিকে অর্থনীতি বা ক্রয়ক্ষমতার সমতা বোঝার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের গড় আয় এবং জীবনযাত্রার মান ভারতের মতো নয়। তাই সেখানকার আয়ের ভিত্তিতে পণ্যের দাম নির্ধারিত হয়।
অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কেন তাঁকে ভারতীয় খাবার দোসা'ই খেতে হবে? নেটিজেনদের একাংশের মতে, আমেরিকায় ভারতীয় খাবার বা দোসা একটি বিদেশি খাবার, যা সেখানে বিলাসী খাবার হিসেবে গণ্য হয় এবং সে কারণে তার দাম বেশি। এর চেয়ে আমেরিকার স্থানীয় খাবার যেমন বার্গার, ফ্রাই বা পিৎজা খেলে খরচ অনেক কম হতো।
কিছু নেটিজেন কিছুটা কঠোরভাবে মন্তব্য করেছেন যে, যদি ডলারে খরচ করার সামর্থ্য বা মানসিক প্রস্তুতি না থাকে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ব্যয়বহুল দেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা করাই উচিত নয়। একজন ব্যবহারকারী সরাসরি লেখেন, ‘গরিব হলে ইউএসএ যাওয়ার দরকার নেই।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘উনি কি ভেবেছিলেন এটা ইন্ডিয়া?
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন