প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আকস্মিকভাবে কানাডা থেকে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, ডেইরি পণ্য এবং অ্যালকোহল খাতের প্রতি কানাডার তথাকথিত বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই নতুন শুল্ক আগামী ত্রিশ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে, আর এর ফলে উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, আমেরিকান ব্যবসা ও শিল্প খাতকে সুরক্ষার জন্য মূলত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই শুল্কের আওতায় প্রাত্যহিক ব্যবহারের বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য যেমন ওয়াইন ও হকি স্টিক থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক সিমেন্টের মতো শিল্পপণ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে, দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তির আওতাধীন জ্বালানি, পটাশ, খনিজ সম্পদ এবং মাছের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্য এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। এমনকি, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর মধ্যে বিদ্যমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির শর্তকে উপেক্ষা করেই এই আমদানি শুল্ক ঘোষণা করা হলো।
এর আগেও দুই দেশের মধ্যে নানা ধরনের বাণিজ্য বাধা এবং পাল্টাপাল্টি শুল্কের ইতিহাস বিদ্যমান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে কানাডার লোহা, অ্যালুমিনিয়াম এবং তামার ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক বজায় রেখেছে। পাশাপাশি কানাডার সফটউড লম্বার বা কাঠজাতীয় পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ এবং মার্কিন যন্ত্রাংশবিহীন গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আদায় করছে ওয়াশিংটন।
কানাডাও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত নির্দিষ্ট কিছু স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম এবং গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে রেখেছে।
কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ার কারণে ট্রাম্প এর আগে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন, তবে সোমবার স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশে দাবানল সংক্রান্ত কোন বিষয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
মূলত গাড়ি, ডেইরি এবং অ্যালকোহল নিয়ে কানাডার সঙ্গে অমীমাংসিত বাণিজ্য ইস্যুগুলোই এই আদেশের মূল ভিত্তি হিসেবে উঠে এসেছে, যা দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য আলোচনার অচলাবস্থাকেই স্পষ্ট করছে।
মার্কিন গাড়ি এবং গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর কানাডার বাড়তি কর আরোপের কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প এটিকে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, কানাডার ডেইরি খাতের সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা সরবরাহ ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সীমার বেশি বিদেশি আমদানির ওপর ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক নেয়া হয়।
সূত্র: বিবিসি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন