প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’ এই প্রতিপাদ্য বিষয়ক সামনে রেখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন এবং সক্রিয় করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১ টার সময় কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
এতে সহযোগিতার জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং কুলিয়ারচর উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
এই সময়ে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি, কুলিয়ারচর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. ইদ্রিস মিয়ার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল আলম রাশিদের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াছিন খন্দকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশন কিশোরগঞ্জের সহকারী উপপরিচালক ইসতেহাক আহম্মেদ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এস.আর.এম.জি কিবরিয়া, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যাবৃন্দ আব্দুল কাদির, লীলা রানী সাহা, মো. নাঈমুজ্জামান নাঈম এবং আলি হায়দার শাহিনসহ বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে আগত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কুলিয়ারচর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. রফিকুল বাহার।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা দুর্নীতির বিভিন্ন কারণ, এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের করণীয় বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরে। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর তথ্য, বক্তব্য এবং সাবলীল উপস্থাপনায় উঠে এসেছে দুর্নীতির ভয়াবহতা এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় তরুণদের করণীয়।
এছাড়া, প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধের সূচনা ব্যক্তিগত পর্যায় থেকেই হওয়া উচিত। ঘুষ প্রদান ও গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। একইসঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দুর্নীতি কেবল রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের পথে বাধা নয়, এটি সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রের সম্পদের অপচয় হয়, সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়। সুতরাং, দুর্নীতি প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে নৈতিকতা এবং মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, তরুণ সমাজকে বাদ দিয়ে দুর্নীতিবিরোধী একটি কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। কারণ বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত হবে। তাদের মধ্যে সততা, স্বচ্ছতা, দেশপ্রেম এবং দায়িত্ববোধের চর্চা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ তৈরি হবে।
আয়োজকদের মতে, বিতর্ক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের শুধু বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি করে না; বরং কোনো সমস্যাকে যুক্তি এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখার সুযোগ তৈরি করে। দুর্নীতির মতো সামাজিক ব্যাধি নিয়ে শিক্ষার্থীদের চিন্তা এবং মতামত প্রকাশের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সচেতন নাগরিক হওয়ার মানসিকতা গড়ে উঠছে।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার এবং সনদ বিতরণ করা হয়েছে। অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদেরকে ভবিষ্যতে দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
পুরস্কার বিতরণ শেষে আয়োজকরা জানান, একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়তো একদিনে সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করতে পারবে না। তবে, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের চিন্তার জগতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে এবং তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে উৎসাহিত করছে। ধারাবাহিকভাবে এই ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হলে সমাজে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা আরও বিস্তৃত হবে।
আয়োজকরা জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থী এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে। তাদের প্রত্যাশা, আজকের সচেতন তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে আরও স্বচ্ছ, ন্যায়ভিত্তিক এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন