প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মিড ডে মিল কর্মসূচির খাবার পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নিয়মিত খাবার পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে, তেমনি বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বাড়ার পাশাপাশি পড়াশোনায় আগ্রহও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
ঠাকুরগাঁও জেলায় সাতটি উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মিড ডে মিল কর্মসূচি গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে চালু হয়েছে। উপজেলার ১৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪ হাজার ৬৩৮ জন শিক্ষার্থীর মাঝে এ কর্মসূচির আওতায় খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
মিড ডে মিলে এ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা মিড ডে মিল কর্মসূচিতে সপ্তাহে পাঁচ দিন পাঁচ ধরনের খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাবারের তালিকায় রয়েছে—ডিম, কলা, বনরুটি, বিস্কুট ও দুধ।
এর মধ্যে ডিম, বনরুটি ও কলা—এই তিনটি খাবার সরবরাহ করছে ইএসডিও। অন্যদিকে, বিস্কুট সরবরাহ করছে প্রাণ। আর শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত আরেকটি খাবার ইউএইচটি দুধ।
তবে কিছুদিন আগে ইউএইচটি দুধ পান করার পর অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর আপাতত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধ বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা।
কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করেই মিড ডে মিলের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। খাবারের মান ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
খাবার সরবরাহের আগে এর মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে জানিয়ে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর মোঃ নূর আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইএসডিওর টিম নিয়মিতভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করছে এবং খাবার নিশ্চিত হওয়ার পরই তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান আরও ভালো করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার অতুল চন্দ্র রায় জানান, সরকারের এ স্কুল ফিডিং কর্মসূচীতে শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খাবারের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
শিশুরা প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার পেয়ে যেমন আনন্দিত হচ্ছে অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপস্থিতি বাড়ছে, তাদের পড়াশোনায় চাঞ্চল্য বেড়েছে,স্বাস্থ্যর দিকেও উন্নতি হচ্ছে এবং প্রতিদিন উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। এ প্রকল্পটি চালু থাকলে উপস্থিতি বাড়বে, পড়াশোনার মান বাড়বে,সুনাগরিক এবং সুস্বাস্থ্যের শিক্ষার্থী পাবে বলে মনে করছেন শিক্ষা কর্মকর্তা।
শিক্ষকরাও বলছেন, নিয়মিত মিড ডে মিল চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। খাবারের সময়টুকু শিক্ষার্থীদের কাছে যেমন আনন্দের, তেমনি পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাবার হাতে পেয়ে শিশুদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থী আগ্রহ নিয়ে খাবার গ্রহণ করছে। শিক্ষকরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু খাবার বিতরণ নয়, এর সঙ্গে শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করাও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই খাবারের মান বজায় রাখার পাশাপাশি কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বালিয়াডাঙ্গীর ১৩৮টি প্রতিষ্ঠানে হাজারো শিশুর জন্য চালু হওয়া এ কর্মসূচি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার পাশাপাশি পুষ্টি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন