প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের চরকাউয়া ইউনিয়নের ঐতিহাসিক স্বনির্ভর খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাচ্ছেন না। ১৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল সফরের সাথে খালটির উদ্বোধনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ওই উদ্বোধন হচ্ছে না। বিএডিসির ব্যর্থতার কারণে প্রকল্পে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে স্থানীয়দের দাবি, উদ্বোধনের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে।
প্রায় ৪৮ বছর পর বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী স্বনির্ভর খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২ ডিসেম্বর, তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে বর্তমান সরকারের আমলে পুনরায় খনন কার্যক্রম শুরু হয়। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) বাস্তবায়নাধীন ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ভরাট হয়ে থাকা খাল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল।
স্থানীয় ভূমি মালিক শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করছেন যে খাল খননের নামে তাদের রেকর্ডভুক্ত জমি কর্তন করা হয়েছে, এবং এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁর দাবি, একজনের ব্যক্তিগত ঘেরে যাওয়ার জন্য ১৪ ফুট রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। যথেষ্ট অর্থ ব্যয়ের পরেও এই খাল খনন প্রকল্পের ফলে তাদের কোনো উপকার হয়নি। বরং পূর্বের তুলনায় জলাবদ্ধতা বেড়ে গেল।
কৃষক কাওছার হোসেন বলছেন, খালের দুই পাশে রাস্তা নির্মাণ করা হলেও পানি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় নালা বা কালভার্ট নির্মাণ করা হয়নি। জলাধারে জমা পানি আটকে থাকার কারণে তাঁর জমিতে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ১০০ মিটার পর পর পানির নালা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। ফলে চলতি মৌসুমে ইরি ধানের চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাওছার হোসেনের ভাষ্য, “সরকারের উদ্দেশ্য ভালো ছিল, কিন্তু বাস্তবায়নের দুর্নীতি ও ত্রুটির কারণে কৃষকরা কোনো সুফল পাননি।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, পূর্ব পাশে প্রায় ৩০০ একর এবং পশ্চিম পাশে প্রায় ৪০০ একর জমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অনেক জমি এই মৌসুমে অনাবাদি অবস্থায় রয়েছে। বোরো চাষ ব্যাহত হওয়ার পরে এখন আমন চাষেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রবণতা চলছে। এছাড়া, অপরিকল্পিতভাবে ভেকুর মাধ্যমে খনন করায় বিভিন্ন স্থানে ইটের রাস্তা ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী একজন স্থানীয় ব্যক্তি অধিকাংশ সিদ্ধান্ত এককভাবে নিয়েছেন এবং এলাকার জনগণের মতামত ও আপত্তি গ্রহণ করেননি।
প্রকল্পের প্রথম উদ্যোক্তা মতিউল ইসলাম রানা বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ও পর্যাপ্ত তদারকির অভাব ছিল। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং বিএডিসি উভয়ের দায়িত্ব যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। মতিউল ইসলাম রানা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী সরেজমিনে আসলে শুধু খাল উদ্বোধনই নয়, বরং এই এলাকার সার্বিক উন্নয়নে এলাকাবাসী উপকৃত হতো।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখানে আসার কথা ছিল কিন্তু ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর হয়তো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। এতে এলাকার উন্নয়নের সুযোগ হারাবেন তাঁরা। এই বিষয়ে অনিয়মকারী স্থানীয় সাব কন্ট্রাক্টর, মূল ঠিকাদার এবং বিএডিসির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন