প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ বর্ষের শিক্ষার্থী মোছা. ফাতেমাতুজ্জোহুরা। তিনি বর্তমানে বিরল ও জটিল রোগ ‘টাকায়াসু আর্টারাইটিস’-এ আক্রান্ত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩০ লাখ টাকা, যা তাঁর দরিদ্র পরিবার বহন করতে পারছে না।
ফাতেমার বাড়ি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নে। তাঁর বাবা একজন সাধারণ ভ্যানচালক। মাত্র আট বছর বয়স থেকে অসুস্থতায় ভুগছেন ফাতেমা। কুষ্টিয়া ও রাজশাহীতে দীর্ঘ চিকিৎসার পরও প্রথমে তাঁর রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ২০২০ সালে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে পরীক্ষার মাধ্যমে বিরল এ রোগটি ধরা পড়ে।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, টাকায়াসু আর্টারাইটিসের কারণে ফাতেমার শরীরের প্রধান রক্তনালীগুলো সংকুচিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি পরীক্ষায় দেখা গেছে, তাঁর কিডনিতে রক্ত সরবরাহকারী ধমনী (Renal Artery) মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে, ফলে কিডনিসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে ফাতেমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় চিকিৎসকরা দ্রুত ‘স্টেন্টিং’ ও উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। এজন্য তাঁকে ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে সেখানে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা।
পড়াশোনা চালিয়ে সুস্থ হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখা ফাতেমা আজ জীবনের কঠিন লড়াইয়ে পরাজিত হতে বসেছেন। ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক ও সহপাঠীদের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারলেও এখন প্রয়োজন বিপুল অর্থ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ল' এন্ড ল্যান্ড এডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২০২০-২১ বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, "ফাতেমা দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছেন। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ, যা তাঁর পরিবারের পক্ষে বহন করা অত্যন্ত কঠিন। আমরা কাছে থেকে দেখছি ফাতেমা অনেক স্ট্রাগল করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই কঠিন সময়ে ফাতেমার পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব।"
আবেগপ্লুত কণ্ঠে ফাতেমা বলেন, "আমি বাঁচতে চাই, পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাই। দেশবাসীর সামান্য সহযোগিতাই পারে আমাকে নতুন জীবন দিতে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন