প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরও যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি জানিয়েছেন, কায়রোর সংগঠনটিতে যোগ দেওয়ার পথে কিছু কারিগরি বিষয় (টেকনিক্যাল ইস্যুজ) এখনো সমাধান হয়নি।
হাকান ফিদান এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এবং শুক্রবারে মিসরের রাজধানী কায়রো সফর করছেন। তবে, মিসরের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাকান ফিদানের বক্তব্যের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও এই জোটের আরো সম্প্রসারণের বিষয়টি ইঙ্গিত করেছেন। গতকাল বুধবার লন্ডনভিত্তিক দৈনিক আশার্ক আল-আওসাতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই উদ্যোগকে কেবল তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না তুরস্ক।
এরদোয়ান বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেবল এই তিন দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং আমরা চাই এর পরিধি আরও প্রসারিত হোক। হয়তো একদিন এমন উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি হবে, যখন এই অঞ্চলের প্রতিটি দেশ একই ছাতার নিচে একত্রিত হতে পারবে।’
তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ন্যাটোর মতো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি উল্লেখ করা হয়েছে যে, জোটের কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে বাকি সদস্যদের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে এরদোয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া নতুন বাস্তবতা থেকেই এ ধরনের একটি চুক্তির প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, এখন আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়বস্তু নিজেদেরই নিতে হবে।
তবে, মিসরের যোগদানের পথে ফিদান যে ‘টেকনিক্যাল ইস্যুজ’ বা ‘কয়েকটি কারিগরি বিষয়’ উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্যে চুক্তির কাঠামো এবং সদস্যপদ সংক্রান্ত শর্তাবলির বিষয় রয়েছে। বিষয়টির পেছনে গভীর রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও থাকতে পারে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জোটে মিসরকে যুক্ত করার ব্যাপারে সৌদি আরবের আপত্তি রয়েছে। অন্যদিকে, ন্যাটোর মতো যৌথ সুরক্ষার বাধ্যবাধকতা মেনে কায়রোও চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত জানায়নি।
এভাবে, ফিদানের ভাষায় ‘কারিগরি বিষয়’ হওয়া সত্ত্বেও এর সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা-স্বার্থ, পারস্পরিক প্রতিশ্রুতির পরিমাণ এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমীকরণের মতো বিষয়গুলো জড়িত থাকতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন