প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারে সরকারি হাসপাতালে ‘রোগীকে’ মাদকের চালান দিতে গিয়ে হাতেনাতে ১৭ হাজার ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে হাসপাতালের চিকিৎসাধীন সেই ‘রোগী’ পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ বলছে, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত মাদক পাচার কৌশল, যেখানে জনসমাগমপূর্ণ হাসপাতালকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। ঘটনার পর সংগঠিত চক্রকে শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের এআরটি সেন্টারে রোগীদের আনাগোনার মধ্যেই সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় অসংখ্য নীল প্যাকেট। একে একে প্যাকেটগুলো খুলে বের করা হয় ইয়াবা। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল ৯০ থেকে ১শ’টি করে ইয়াবা ট্যাবলেট। আটক স্বামী-স্ত্রীর সামনেই জব্দ করা এসব ইয়াবা গণনা করে পুনরায় প্যাকেটজাত করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ দেখে বিস্মিত হন উপস্থিত অনেকেই।
পুলিশ জানায়, টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং থেকে সিএনজিযোগে স্বামী-স্ত্রী মিলে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে কৌশলে চালান দিতে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আসে। বিকেল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেয় পুলিশের একাধিক টিম। টানা বৃষ্টির মধ্যেও চলে নজরদারি। পরে রাতে সদর হাসপাতালে পৌঁছামাত্র অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় জব্দ করা হয় ১৭ হাজার পিস ইয়াবা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ‘রোগী’র কাছে ইয়াবার চালান পৌঁছে দিতেই এসেছিলেন ওই স্বামী-স্ত্রী। হাসপাতালে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কোনো সংঘবদ্ধ মাদক চক্র সক্রিয় রয়েছে কি-না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বাসস’কে বলেন, টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং এলাকা থেকে একটি সিএনজিতে করে স্বামী-স্ত্রী দু’জন ইয়াবা নিয়ে সদর হাসপাতালের দিকে আসছে -এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি বলেন, বিকেল ৪টা থেকে বৃষ্টির মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে একাধিক টিম অবস্থান নেয়। পরে সিএনজিটি সদর হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন আয়েশা আক্তার ও জাগির।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন ‘রোগী’ জোবায়ের ওরফে ফরিদ এই লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। তবে অভিযানের পর জোবায়েরকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। তারা হাসপাতালকে ব্যবহার করে কৌশলে ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল কি-না তা তদন্ত করা হচ্ছে। একই সাথে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি-না, তা-ও তদন্ত করা হচ্ছে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে হাসপাতালকে কেন্দ্র করে ইয়াবা লেনদেনে স্বামী-স্ত্রী আটকের ঘটনায় পুরো এলাকায় ছড়িয়েছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসা সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে মাদকের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন মোহাম্মদ সাজ্জাদ বাসস’কে বলেন, ‘হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এবং রোগীদের ব্যবহার করে যদি কেউ মাদক কারবার পরিচালনা করে, তাহলে এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক বিষয়। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।’
অভিযানে আটক জাগির হোসেন ও আয়েশা বেগম দু’জনই টেকনাফের হ্নীলা এলাকার নয়াপাড়ার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন