প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘দুর্নীতির অভিযোগ’ ওঠার কারণে বিমান বাংলাদেশের প্রকৌশল বিভাগে সব ধরনের পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত করেছে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
গত ৩ আগস্ট, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শারমিন আক্তার একটি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল না করা পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেডের সম্প্রতি গৃহীত পদোন্নতি সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে অভিযোগটি করেন বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক কর্মকর্তা। অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভাগটিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির মাধ্যমে একটি চক্র প্রভাব বিস্তার করে আসছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ থেকে ১৫টি অনুমোদিত পদ প্রত্যাহার করে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতির প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এই বিষয়ে গত ২৮ জুন একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
একই সঙ্গে, সিভিল এভিয়েশন অথোরিটির পার্ট-১৪৫ বিধিমালার আওতায় অনুমোদিত জনবল কমিয়ে দেওয়ায় অপারেশনাল নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের শেষ দিকে যোগ দেওয়া কয়েকজন কনিষ্ঠ কর্মীকে অস্বাভাবিকভাবে গ্রুপ-৬ পদে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩১ লাখ টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেন ঘটেছে এমন দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া, আটজন যোগ্য প্রকৌশলীর পদোন্নতির ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা, লাইসেন্স ভাতা বন্ধ রাখা এবং কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, দীর্ঘদিন ধরে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বাধ্যতামূলক সাক্ষাৎকার ছাড়াই পদোন্নতি দেওয়া, বদলির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে পদ শূন্য দেখানোর মতো বিভিন্ন অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। আবার, জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে জুনিয়রদের পদোন্নতি দেওয়া, টেকনিক্যাল দায়িত্ব পালন না করেও ভাতা প্রদান, কাগজে-কলমে ভিন্ন পদায়ন দেখানো, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি এবং এক পদে নিয়োগ দিয়ে অন্য পদে কাজ করানোর মতো নানা অনিয়মও ঘটছে। সাংগঠনিক কাঠামোয় অস্তিত্ব না থাকা পদেও বেতন প্রদান করা হচ্ছে।
কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অনিয়ম সংঘটিত হলে, শাস্তির পরিবর্তে তাদের অন্য বিভাগে বদলি করার অভিযোগও এসেছে।
মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগের ব্যাপারেও অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে কিছু কর্মকর্তাকে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাদের তুলনায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি উঠেছে।
একই ধরনের কৌশলে একাধিক ব্যক্তিকে একই পদে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়টিও অভিযোগে উল্লেখিত হয়েছে।
এদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্তৃপক্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, তারা ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছে এবং এখন এই বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের তদন্তাধীন।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শারমিন আক্তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, গুরুতর দুর্নীতি এবং স্বৈরাচারী সিন্ডিকেটের চক্রান্তের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। বিমান ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গ্রুপ ৫ ও ৬ এর অবৈধ পদোন্নতি অবিলম্বে স্থগিত করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল না করা পর্যন্ত, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেডের সম্প্রতি গৃহীত পদোন্নতি সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। গৃহীত পদোন্নতি সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন