প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে আদালতে মামলা দায়ের করায় একটি বিধবার বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে উঠেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ৩ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের একটি ক্লিপের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরের সময় উপজেলার বেলঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের মিতল্লা গ্রামে মরহুম আবদুস সাত্তারের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু ব্যক্তি একটি বসতঘরের টিনের বেড়া খুলে রাস্তার পাশে স্তুপ করে রেখেছে। এসময় ওই বিধবা, পেয়ারা বেগম ও তাঁর ছেলেরা কান্নাকাটি করে ঘরের ভাঙচুর বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করছে এবং আশপাশের লোকজনকে ঘটনা দেখার জন্য ডাকছেন। তবে ভিডিওতে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়ার চিত্র দেখতে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ, ভূমি অফিস ও ভুক্তভোগী সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিতল্লা গ্রামের মরহুম আবদুস সাত্তারের স্ত্রী, 60 বছর বয়সী পেয়ারা বেগম তাঁর তিন ছেলে শহিদুল ইসলাম, সুজন ও ইসমাইলকে নিয়ে স্বামীর বসতভিটায় বসবাস করছেন। কিছুদিন আগে, আবদুস সাত্তারের একটি খালি ভিটে জমি তাঁর ভাই আবদুল মান্নান জোরপূর্বক দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন, বলছেন পেয়ারা বেগম। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি কুমিল্লার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা করেছেন।
আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব লালমাই উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দেওয়া হয়। তদন্তের প্রেক্ষিতে, দুই সপ্তাহ আগে লালমাই থানার এএসআই নজরুল ইসলাম উভয় পক্ষকে শান্তি ভঙ্গ না করার জন্য নোটিশ প্রদান করেন। মঙ্গলবার উপজেলা সার্ভেয়ার আবু হানিফ সরেজমিন তদন্ত শেষে ফিরে যাওয়ার পর অভিযোগ অনুযায়ী আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে তাঁর ভাই আবুল কালাম ও আবু তাহেরসহ কয়েকজন গ্রামবাসী উপস্থিত হয়ে পেয়ারা বেগমের বসতঘর ভাঙচুর করে।
ভুক্তভোগী পেয়ারা বেগম বলেন, 'আমার দেবর আবদুল মান্নান আমার স্বামীর রেখে যাওয়া জমি দখল করে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। তাই আমি আদালতে মামলা করেছি। তদন্ত শেষে কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর তারা আমাদের বসতঘর ভেঙে দেয়।
এসময় আমার ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, ছেলের একটি রেডমি মোবাইল ফোন এবং কিছু নগদ টাকা নিয়ে যায়। আমরা অনেক অনুরোধ করলেও তারা ঘর ভাঙচুর বন্ধ করেনি।'
লালমাই থানার এএসআই নজরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, 'আমি ১৪৫ ধারার মামলার নোটিশ উভয় পক্ষকে দিয়েছি, যাতে কেউ শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করে। পরে কিভাবে ঘর ভাঙচুর হয়েছে, সেটি আমার দায়িত্বের বিষয় নয়।'
ভুশ্চি বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, 'ঘর ভাঙচুরের ভিডিও দেখে ওসির নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।'
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, 'সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। ভুক্তভোগী যদি লিখিত অভিযোগ দেয়, তবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল মান্নানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন