প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দুর্বল মার্কিন ডলার এবং মার্কিন ট্রেজারির বন্ড পুনঃক্রয় পদক্ষেপের প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি টানা তৃতীয় সপ্তাহে সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির পথে রয়েছে মূল্যবান ধাতুটি।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে তথ্য এসেছে যে, আগের সেশনে জুনের শুরুর দিকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪০ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। চলতি সপ্তাহে, এখন পর্যন্ত দাম বেড়ে গেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে, মার্কিন গোল্ড ফিউচার ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৯৬ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে।
গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যান মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা ডলারকে দুর্বল হতে দেখেছি। এটি শুধু সোনাকে নয়, সব মূল্যবান ধাতুকেই সমর্থন জুগিয়েছে। সেই সঙ্গে ইল্ডেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।’
ডলারের দর কমে যাওয়ার কারণে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য ডলার-মূল্যের বুলিয়ন আরও সাশ্রয়ী হয়ে উঠছে। মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট বলেছেন, সরকার ট্রেজারি পুনঃক্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়াতে পারে। এর আগে বুধবার, ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ত্রৈমাসিকে দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিজ পুনঃক্রয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে। প্রতিটি কার্যক্রমে এর পরিমাণ কমপক্ষে ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, ট্রেজারি বিভাগের ঋণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতির অবস্থানকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে, সে বিষয়ে সতর্কতা জানিয়েছেন ফেডারেল রিজার্ভের দুই কর্মকর্তা।
ব্রায়ান ল্যান আরও বলেন, স্বর্ণের ঊর্ধ্বমুখী গতি নির্ভর করবে ফেড পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই সিদ্ধান্তগুলো বাজারের সুদের হারের প্রত্যাশাকে কিভাবে প্রভাবিত করে তার ওপর।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, গত সপ্তাহে বেকার ভাতার জন্য আবেদন করা আমেরিকানদের সংখ্যা কমেছে। এতে জুলাইয়ে কর্মসংস্থানে অপ্রত্যাশিত পতন হলেও শ্রমবাজারে স্থিতিশীল থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে ফেড মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ ধরে রাখার অবস্থানে রয়েছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্যমতে, ট্রেডাররা এখন ৬৪ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছেন যে ফেড আগামী মাসে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। আর সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ধরা হচ্ছে ৩৬ শতাংশ।
স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে দেখা হয়। তবে এ ধাতু থেকে কোন সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়লে সোনার আকর্ষণ কমে যেতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করবে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৯২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৭২ দশমিক ৬৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৫১ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছেছে। এই তিন ধাতুর সাপ্তাহিক দাম বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারের দাম বৃদ্ধি দেশের বাজারে প্রভাব ফেলে। তাই যে কোন সময় দেশের বাজারেও মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম বেড়ে যেতে পারে।
এর আগে, সর্বশেষ গত ২০ আগস্ট সকালে স্বর্ণ ও রুপার দাম বৃদ্ধি করেছেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে এই দুই মূল্যবান ধাতুর দাম যথাক্রমে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা ও ২৩৩ টাকা বেড়েছে।
দেশের বাজারে বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩০৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন