প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লিবিয়ায় যুবককে আটকে রেখে মুক্তিপণ চেয়ে মাদারীপুরের রফিকুল ইসলাম রাব্বির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মাফিয়াদের কয়েক দফা ৮৫ লাখ টাকা প্রদান করা হলেও, গত এক সপ্তাহ ধরে ওই যুবকের সন্ধান নেই। এর মধ্যেই দালালচক্র তার নির্যাতনের একটি ভিডিও পাঠিয়েছে। ভিডিওটি দেখে হৃদরোগের শিকার হয়ে মারা যান রফিকুলের মা-বাবা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সরেজমিনে মাদারীপুরের মধ্য খাগদী এলাকার যুবক রফিকুল ইসলাম রাব্বির বাড়িতে গেলে দেখা যায়, মৃতদের পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। নিখোঁজ যুবকের খোঁজ না পেয়ে দালালের বাড়ি ঘেরাও করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে রফিকুল ইসলাম রাব্বি পরিবারের জন্য সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। কিন্তু পরে তাকে লিবিয়ায় আটকে রেখে মাফিয়ারা নির্যাতন চালাতে থাকে। পরিবারে পাঠানো হয় নির্যাতনের ভিডিও। সেই ভিডিওরে কারণে দেড় বছর আগে বাবা জলিল বেপারী এবং ৬ মাস আগে মা মেহেরুন নেছা মারা যান। এরপরও দালালচক্র থেমে নেই। পরিবার থেকে কয়েক দফা মুক্তিপণের মোট ৮৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। এরপরও রাব্বির মুক্তি মিলছে না। তিনি এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের তালতলা এলাকার রিয়াজুল মাতুব্বর এবং তার শ্বশুর মধ্য খাগদী এলাকার জামাল ফকির ও শাশুড়ি রোমানা বেগমের সঙ্গে চুক্তি করে রাব্বির পরিবার। পরে সরাসরি ইতালি পাঠানোর বদলে রাব্বিকে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন চালাতে থাকে এবং লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
রাব্বি এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ, তার সন্ধানের জন্য মঙ্গলবার দুপুরে দালালের বাড়িতে গিয়েছেন স্বজনরা। সেখানে গিয়ে কোনো উত্তর না পেয়ে তারা হতাশ হন।
তথ্য অনুযায়ী, রাব্বি তিন ভাই এক বোনের মধ্যে সবার ছোট। ভিটেমাটি বিক্রি করে এবং চড়া সুদে লাখ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তার পরিবার দিশেহারা। পাওনাদারের টাকা ফেরতের চাপ এবং যুবক নিখোঁজ থাকায় তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছে।
এলাকাবাসী বলেন, রিয়াজুল বেশ কিছুদিন ধরে ইতালির কথা বলে যুবকদের লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ জন্য তিনি এলাকায় এবং শ্বশুরবাড়িতে ভবন নির্মাণ করেছেন। তারা এ ঘটনার কঠোর বিচার চান।
রাব্বির বড় ভাই তানজিলা আক্তার বলেন, ‘আমার ভাইকে জিম্মি করে মোট ৮৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দালালচক্র। এই ঘটনার জন্য আমরা দালালচক্রের বিচার চাই, আর আমার ভাইকে দ্রুত ফেরত পাওয়ার দাবি জানাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা সাগর বেপারী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রিয়াজুল বিদেশে লোক নেয়ার কথা বলে প্রতারণা করে আসছে। এই চক্রের সাথে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অন্যায় করতে না পারে।’
এদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত রোমানা বেগম বলেন, রফিকুল ইসলাম রাব্বি কোথায়, কবে, এবং কার মাধ্যমে গিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। টাকা লেনদেনের বিষয়ের ব্যাপারেও তিনি অবগত নন। তিনি জানান, তার জামাই রিয়াজুল মাতুব্বর ইতালি থাকেন এবং স্বামী কালকিনি উপজেলায় কাজে গেছেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, ‘এ ব্যাপারে নিখোঁজ যুবকের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া এমন খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তথ্য সংগ্রহ করছে, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য যাচাই-বাছাই চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন