প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অভিযোগ করেছেন যে মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ব্রিটেনে ‘বিভাজন উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন’।
এই অভিযোগের পেছনে রয়েছে এক শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থী হত্যাকা-ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সৃষ্ট ক্ষোভ। ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী হেনরি নোভাককে গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন শহরে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকা নোভাককে পুলিশ হাতকড়া পরায়। পরবর্তীতে তার মৃত্যু ঘটে, যা যুক্তরাজ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
মামলায় অভিযুক্ত ২৩ বছরের বিক্রম ডিগওয়া শিখ সম্প্রদায়ের সদস্য এবং তিনি পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দাবি করেছিলেন যে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন এবং নোভাক তাকে বর্ণবাদী গালি দিয়েছিলেন। যুক্তরাজ্যের কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই ঘটনার উদাহরণ টেনে দাবি করছে যে, দেশটির পুলিশ শ্বেতাঙ্গ এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের প্রতি ভিন্ন আচরণ করে। তবে স্টারমারের সরকার ও পুলিশ নেতৃত্ব এই অভিযোগকে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর মালিক মাস্ক এ ঘটনার তদন্ত ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক পোস্ট করেছেন। এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘মানুষ কি জানে যে পুলিশের আনুষ্ঠানিক নীতিমালাই তাদের শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণ করতে বাধ্য করে?’
এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যক্তিগত মামলা পরিচালনার অর্থায়নের প্রস্তাবও দিয়েছেন মাস্ক, একই সঙ্গে তিনি হ্যাম্পশায়ার পুলিশকে কটাক্ষ করেছেন।
লন্ডন থেকে এএফপি জানায়, এ প্রসঙ্গে স্টারমার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের দেশ হিসেবে আমরা কারা, সেটিও তুলে ধরতে হবে। কারণ গত কয়েক দিনে মাস্ক আবারও আমাদের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং বিভাজন উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ব্রিটেন এমন দেশ নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্রিটেনের মানুষ যুক্তিবাদী ও সহনশীল। হেনরির ঘটনার মতো ভয়াবহ কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা তার পরিবারের মতোই শান্ত ও সংযতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাই।’
হেনরি নোভাকের বাবা আগে থেকেই অনুরোধ করেছেন যে, তার ছেলের হত্যাকা-কে যেন ‘আরও বিভাজন, ঘৃণা বা উত্তেজনা সৃষ্টির’ কাজে ব্যবহার না করা হয়। সোমবার আদালত ভিকরাম ডিগওয়াকে কমপক্ষে ২১ বছরের কারাদ- দেয়। মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি ২১ সেন্টিমিটার (আট ইঞ্চি) ব্লেডবিশিষ্ট একটি আনুষ্ঠানিক ছুরি দিয়ে নোভাককে হত্যা করেন।
মঙ্গলবার রাতে সাউদাম্পটনে কট্টর ডানপন্থিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে ইট, ফ্লেয়ার ও চেয়ার নিক্ষেপ করে। এ ঘটনার জন্য একজনের বিরুদ্ধে হামলার ও আরেকজনের বিরুদ্ধে সহিংস বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। স্টারমার বলেন, এ ধরনের সহিংসতার কোনো যুক্তি নেই।
তিনি আরও বলেন, নোভাক হত্যার ঘটনায় মানুষের প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত ‘বিশুদ্ধ ঠান্ডা ক্ষোভ’—এমন মন্তব্য করে নাইজেল ফারাজ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ‘অমার্জনীয়’। জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা রিফর্ম ইউকের নেতা ফারাজ তার মন্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
স্টারমার বলেন, নোভাকের মৃত্যুর সময় ধারণ করা বডিক্যাম ফুটেজ ‘হৃদয়বিদারক’। ওই ফুটেজে বারবার দেখা যায়, তিনি পুলিশকে বলছেন যে তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া প্রয়োজন’ এবং ঘটনাটি তদন্ত করছে ইন্ডিপেনডেন্ট অফিস ফর পুলিশ কন্ডাক্ট (আইওপিসি), আশা করা হচ্ছে আগামী তিন মাসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।
মাস্ক দীর্ঘদিন ধরে স্টারমারের সমালোচক। রাজনীতিতে আসার আগে স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন। গত বছর শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত ‘গ্রুমিং গ্যাং’ কেলেঙ্কারিতেও তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। তখন স্টারমার বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন মাস্কের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর’ অভিযোগ করেছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন