প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের সমস্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানের মানোন্নয়ন, শিখন ঘাটতি চিহ্নিতকরণ ও সার্বিক শিক্ষাদান কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে তদারকির উদ্দেশ্যে সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ ‘আইটি ইকোসিস্টেম’ চালু করতে যাচ্ছে।
এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ রূপরেখা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হবে। যার মাধ্যমে শিক্ষকরা ঠিকমতো পাঠদান করছেন কি না এবং শিক্ষার্থীরা কতটুকু বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছে তার রিয়েল-টাইম মনিটরিং নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সম্প্রতি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি সচিবালয়ে তাঁর নিজ দফতরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকারে তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, শতভাগ মানসম্পন্ন মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগ, প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ, প্রাথমিকের বিষয়ভিত্তিক ভীতি দূরীকরণে কারিকুলাম পরিমার্জনের উদ্যোগ এবং নতুন শিক্ষক নিয়োগের চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আইটি ইকোসিস্টেম ও ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের অকার্যকর ও বিচ্ছিন্ন কেনাকাটার সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রযুক্তি বলতে কেবল ল্যাপটপ বা ট্যাব কেনার বিষয়টি নয়, বরং একটি সমন্বিত ডিজিটাল শিখন ও পাঠদান তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ ‘আইটি ইকোসিস্টেম’ তৈরি করছি, যেখানে প্রতিটি শিক্ষকের হাতে একটি করে ‘ট্যাব’ থাকবে। এটি একটি সুসংহত কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে কোনো শ্রেণিকক্ষে সিলেবাস শেষ হতে সমস্যা হচ্ছে কি না কিংবা শিক্ষার্থীরা কোথায় বুঝতে পারছে না তা তাৎক্ষণিকভাবে মনিটরিং করা সম্ভব হবে।’
তিনি জানিয়ে দেন, শিগগিরই এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে এবং তা আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সারাদেশে সম্প্রাসারিত হবে।
নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে সরকারের প্রথম ১৮০ দিন বা ৬ মাস পূর্তি উপলক্ষে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারটি মূলত পাঁচ বছরের জন্য জনগণের কাছে দেওয়া একটি সামগ্রিক প্রতিশ্রুতি। তবে প্রথম ছয় মাসে যতটুকু কাজ শুরু এবং বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তার সবই আমরা করেছি। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ৩৭টি ইশতেহার সংক্রান্ত বিষয়ের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। পর্যালোচনায় দেখা গেছে- প্রতিশ্রুতির বেশিরভাগের অগ্রগতি ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফলাফল দেখিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একটি দক্ষ টিমের মাধ্যমে অত্যন্ত গতিশীলতার সঙ্গে কাজ চলছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ইশতেহারের মূল বিষয়গুলো শতভাগ অর্জন সম্ভব হবে।’
তিনি স্কুল মিড ডে মিল কর্মসূচির গুণগত মান নিশ্চিতকরণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে সারপ্রাইজ ভিজিট এবং ‘মাদারস কমিটি’ সক্রিয় করার মাধ্যমে খাবারের মান তদারকি করা হচ্ছে। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে ‘জিরো ডিফেক্ট’ বা শতভাগ ত্রুটিমুক্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এ প্রকল্পের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার আশঙ্কাজনক নয়, বরং প্রাথমিক শেষ করে মাধ্যমিকে যাওয়ার সময় কিছু ঝরে পড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে যে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুষ্টিকর মিড-ডে মিল চালু করা হয়েছে, সেখানে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির হার পরিচিতভাবে বেড়েছে। ‘লার্নিং উইথ জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করায় অচিরেই প্রাথমিক স্তরে ‘ঝরে পড়া’ শব্দটির অস্তিত্বই থাকবে না। অর্থাৎ, প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
সহজ কারিকুলাম ও আনন্দময় শিক্ষা সম্পর্কে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো বিষয়ভিত্তিক ভীতি দূর করার জন্য বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে কারিকুলামের কাঠিন্য দূর করার কাজ চলছে। মূল লার্নিং লক্ষ্যসমূহ অপরিবর্তিত রেখে শিক্ষাবিদ ও কারিকুলাম বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি কাজ করছে। প্রতিটি শ্রেণিতে বিষয়ভিত্তিক কাঠিন্য দূর করে আনন্দময় পদ্ধতিতে পড়ার ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও নাগরিক শিক্ষাকে কারিকুলামের সঙ্গে ব্যাপকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টা চলছে।
এছাড়া, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট ও পদোন্নতির জটিলতা নিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারি পে-স্কেল ও গ্রেড সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির বিষয়টি সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)-এর এখতিয়ারভুক্ত। তিনি বলেন, আমরা ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করেছি। পিএসসি থেকে এই সম্পর্কিত আনুষ্ঠানিক দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত পাওয়ার পরই খালি হওয়া পদগুলোতে দ্রততম সময়ের মধ্যে নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ওপর উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন