প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের ৮৫ বছর পর আবারও সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে জার্মানি ও জাপান। চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে, দুই দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতাও বাড়াচ্ছে।
১৯৪০ সালে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অক্ষশক্তিতে যোগ দিয়েছিল জার্মানি ও জাপান। তবে এবার তাদের সামরিক সহযোগিতার উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় জার্মানির সমর্থন এবং চীন ও উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে জাপানের উদ্বেগ তাদের ঘনিষ্ঠ করছে। এ সহযোগিতায় ড্রোন, হেলিকপ্টারসহ সামরিক প্রযুক্তি, অস্ত্র ও দক্ষতা বিনিময় রয়েছে।
এদিকে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে দুই দেশের সহযোগিতা আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেছেন, নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা সমর্থনকারী জার্মানি ও জাপানের আরো ঘনিষ্ঠ হওয়া প্রয়োজন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, দুই দেশই সামরিক ব্যয় কমিয়ে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে মনোযোগ দেয়। জাপানের সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে যুদ্ধ পরিত্যাগের ঘোষণা রয়েছে এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর সরকারি নাম ‘সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সেস’।
জার্মানিও দীর্ঘদিন প্রতিরক্ষার চেয়ে সামাজিক খাতে বেশি ব্যয় করেছে।
তবে ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ এবং চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউরোপীয় নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তাও দুই দেশকে দ্রুত পুনঃসামরিকীকরণের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস সামরিক ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। অন্যদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ও অস্ত্র রপ্তানির ওপর যুদ্ধ-পরবর্তী বিধিনিষেধ শিথিল করেছেন।
তবে জাপানে এ নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভও হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তি বাড়ালেও জার্মানি ও জাপানকে নিজেদের জনগণের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সম্ভাব্য যুদ্ধের বিষয়ে নতুন মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন