প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডলারের দরপতন, ট্রেজারি ইল্ড কমে আসা এবং হরমোজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার আশাবাদের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে স্বর্ণের দাম। মূল্যবান এই ধাতু প্রায় সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৮৫ দশমিক ৬৯ ডলারে অবস্থান করছে, যা ১৮ জুনের পর সর্বাধিক।
এর আগের দিন স্বর্ণের দাম ফেব্রুয়ারির পর সবচেয়ে বড় দৈনিক উল্লম্ফন দেখেছিল। একই সঙ্গে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে।
এদিন মার্কিন ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি নোটের ইল্ড কমেছে। পাশাপাশি মার্কিন ডলার সূচকও চাপের মুখে ছিল। ডলারের দর কমে গেলে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ সাহসে তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে যায় যা চাহিদা বাড়াতে সহায়তা করে।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমোজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকবে।
রয়টার্সকে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন সূত্র ও অঞ্চলের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি ইরানের জন্য এখনও পর্যন্ত দেওয়া সবচেয়ে বড় ছাড়গুলোর মধ্যে একটি।
বর্তমান ইরান ইস্যুতে আশাবাদ বাড়ানোর ফলে আগামী সেপ্টেম্বরে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে; এমন প্রত্যাশাও কমে গেছে। দুই দিন আগে যেখানে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৬৭ শতাংশ ধরা হয়েছিল, এখন তা ৫৫ শতাংশে নেমে এসেছে। সাধারণত কম সুদের হারের পরিবেশে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পায়, কারণ স্বর্ণে কোনো সুদ পাওয়া যায় না।
এখন ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যদি মুদ্রাস্ফীতির চাপ অতিরিক্ত পর্যায়ে থাকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বল্পমেয়াদি সুদের হার আরও বৃদ্ধি করার বিষয়ে বিবেচনা করতে হতে পারে।
এদিকে, বিনিয়োগকারীদের নজর শুক্রবার প্রকাশিতব্য জুলাই মাসের মার্কিন নন-ফার্ম পে-রোলস প্রতিবেদনের দিকে। এর আগে বুধবার প্রকাশিত এডিপির জাতীয় কর্মসংস্থান প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের বৃদ্ধির গতি হ্রাস পেয়েছে। জুনে সংশোধিত হিসাবে যেখানে ৯৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল, জুলাইয়ে তা নেমে এসেছে ৪৪ হাজারে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬২ দশমিক ৩৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৫০ দশমিক ১৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৭৭ ডলারে পৌঁছেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন