প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর অবশেষে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার আধুনিক আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) সেবা চালু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হামে আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য এই সেবা শুরু করা হলেও পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিশ্চিত করে সব ধরনের সংকটাপন্ন রোগীর জন্য আইসিইউ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার সকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “মাদারীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল জেলা হাসপাতালে একটি কার্যকর আইসিইউ সেবা চালু করা। আজ সেই প্রত্যাশার বাস্তবায়নের সূচনা হলো। আপাতত হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আইসিইউ চালু করা হয়েছে। খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সব ধরনের রোগীর জন্য পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ সেবা চালু করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “উন্নত স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। জেলার মানুষ যাতে চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার স্বাস্থ্য খাতে ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু হওয়া সেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালটিতে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনে তিন কোটিরও বেশি টাকার অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন করা হয়েছে। ২০২৩ সালে ইউনিটটির উদ্বোধন করা হলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স ও টেকনিশিয়ানের সংকটের কারণে এতদিন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে মূল্যবান যন্ত্রপাতিগুলো দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল।
এতদিন আইসিইউ সুবিধা না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের ফরিদপুর কিংবা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হতো। এতে রোগী ও স্বজনদের বাড়তি অর্থ ব্যয়, সময়ক্ষেপণ এবং নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।
রোগীর স্বজন ইসমাইল খান বলেন, “গুরুতর অসুস্থ রোগীদের আইসিইউ সুবিধার জন্য দূরে নিয়ে যেতে হতো। এতে অনেক সময় রোগীর অবস্থা আরও জটিল হয়ে যেত। আইসিইউ চালু হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”
আরেক স্বজন শহিদুল হাসান বলেন, “শুধু হাম রোগী নয়, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও অন্যান্য জটিল রোগীরাও যেন এখানে চিকিৎসা পায়, সে জন্য দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে আইসিইউ সেবা চালুর দাবি জানাচ্ছি।”
মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শরীফুল আবেদিন কমল জানান, জনবল সংকট থাকলেও হাম আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য আইসিইউ সেবা চালু করা হয়েছে। ধাপে ধাপে জনবল সংকট নিরসনের মাধ্যমে ইউনিটটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি যন্ত্রপাতির সুরক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানসহ অনুমোদিত ২৬৭টি পদের মধ্যে বর্তমানে ১০২টি পদ শূন্য রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত এসব শূন্য পদ পূরণ করা হলে আইসিইউসহ হাসপাতালের অন্যান্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এতে জেলার প্রায় ১৩ লাখের বেশি মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আইসিইউ সেবা চালুর মাধ্যমে মাদারীপুরের স্বাস্থ্যসেবায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন