প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহের ত্রিশাল-ফুলবাড়িয়া সড়কের খানাখন্দে ভোগান্তিতে রয়েছে লক্ষাধিক মানুষ দুই উপজেলার। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থা যানবাহন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংস্কারকাজ শুরু হলেও তিন কিলোমিটারের মধ্যে দেড় কিলোমিটার কাজ শেষ করে বাকি অংশ ফেলে রাখায় ভোগান্তি আরো বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কে বড় গর্তে আটকা পড়েছে একটি মালবোঝাই ট্রলি। প্রতিদিন গর্তে পড়ে অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। স্থানীয় স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ত্রিশাল উপজেলা সদর থেকে ফুলবাড়িয়া উপজেলা পর্যন্ত ত্রিশাল-ধুরধুরিয়া সড়কটি কয়েক বছর ধরে খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। সড়কটির তিন কিলোমিটার সংস্কারের জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রায় দুই কোটি টাকা চুক্তিমূল্যে মেসার্স সাইফুল ইসলামকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদার মে মাস পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ করে বাকি অংশ ফেলে রাখেন।
সরেজমিনে আরো দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে বেরিয়ে পড়েছে মাটি ও খোয়া। খানাখন্দে ভরা সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় যানবাহন দুলতে থাকে। গর্তে পড়ে প্রায়ই অটোরিকশা ও সিএনজি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে যাত্রী ও চালকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বড় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ থাকায় মালামাল পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে।
সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ছলিমপুর এলাকার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে শিক্ষকরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক শিক্ষার্থী অটোরিকশা ও ভ্যানে না গিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
ছলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোমাইয়া সাদমিন বলেন, ‘সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় আমাদের আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। অটোরিকশা বা সিএনজিতে চলাচলের সময় কোথায় গাড়ি উল্টে যায়, সেই ভয় থাকে। অনেক সময় গর্তে পড়ে গাড়ি কাত হয়ে যায়।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিনই আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। খানা-খন্দ ও বড় বড় গর্তের কারণে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে অটোরিকশা ও সিএনজি প্রায়ই গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরো বাড়বে।’
এ বিষয়ে ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অর্ধেকেরও বেশি রাস্তার কাজ শেষ করে জুন মাসে ৫০ লাখ টাকা বিলের আবেদন করেছি। এখন পর্যন্ত আমাকে এক টাকাও বিল দেওয়া হয়নি। তাছাড়া বিটুমিন না পাওয়ায় কাজ করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি-বাদল শেষ হলে দ্রুতই কাজ শেষ করে ফেলব।’
উপজেলা প্রকৌশলী জুবায়েত হোসেন জানান, ‘ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার তাগিদপত্র দিয়েছি। বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় বিটুমিনের কাজ করা কঠিন।’
বিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে অর্থ ছাড় না পাওয়ায় ঠিকাদারের বিল দেওয়া সম্ভব হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন