প্রিন্ট এর তারিখঃ ২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং; ০৫:৩৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইং; ০৯:৪৬ পি.এম
পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক পদটি বর্তমানে শূন্য থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এ পদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। জেলার উন্নয়ন, জনসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে একজন অভিজ্ঞ, দক্ষ ও জনসম্পৃক্ত ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এরই মধ্যে তেঁতুলিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শাহীনের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে।
সম্প্রতি পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক মেয়র তহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে পুরো জেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মৃত্যুতে জেলা পরিষদের নেতৃত্বে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা এখনো অনুভব করছেন জেলার মানুষ। একই সঙ্গে জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম যাতে দীর্ঘদিন স্থবির না থাকে, সে জন্য দ্রুত একজন যোগ্য প্রশাসক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমন প্রেক্ষাপটে রেজাউল করিম শাহীনের নামকে সামনে আনছেন তার অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাদের দাবি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ তাকে এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখে। রেজাউল করিম শাহীন তেঁতুলিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর আগে তিনি তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চেয়ারম্যান থাকাকালীন স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকার কথাও উল্লেখ করছেন তার সমর্থকরা।
দলীয় পরিচয়ের বাইরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক, শ্রমজীবী, কৃষকসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে তার অনুসারীদের বক্তব্য। তাদের মতে, এই জনসম্পৃক্ততা জেলা পরিষদের মতো একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামেও রেজাউল করিম শাহীনের সক্রিয় ভূমিকার কথা সামনে আনছেন তার সমর্থকরা। তাদের দাবি, আন্দোলন চলাকালে শুধু তেঁতুলিয়া নয়, জেলার বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের পাশে থাকার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে তার একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
সমর্থকদের মতে, একজন জেলা পরিষদ প্রশাসকের মূল দায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা নয়; বরং জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের প্রয়োজন ও প্রত্যাশা বুঝে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা। এ ক্ষেত্রে রেজাউল করিম শাহীনের স্থানীয় সরকার পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
তাদের আরও দাবি, পঞ্চগড় জেলা পরিষদের আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় জনসেবা এবং সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শুরু করে শহরাঞ্চল পর্যন্ত মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে একজন জনসম্পৃক্ত প্রশাসক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
এদিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে রেজাউল করিম শাহীনের নাম আলোচনায় আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা সরকারি ঘোষণা আসেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত কে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পাচ্ছেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
জেলাবাসীর প্রত্যাশা, নতুন প্রশাসক এমন একজন ব্যক্তি হবেন, যিনি দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন, জনস্বার্থ ও সুশাসনকে অগ্রাধিকার দেবেন। জেলা পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গতিশীলতা ফিরিয়ে এনে জেলার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন—এমন নেতৃত্বই এখন প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।
রেজাউল করিম শাহীনের সমর্থকদের প্রত্যাশা, তার পূর্বের জনপ্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে তাকে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন