প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে চিঠি জমা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ৫৮ জন বিধায়ক, যার প্রেরণাপত্র স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার (৩ জুন) ঋতব্রতের নেতৃত্বে কিছু বিধায়ক স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্বাক্ষরসংবলিত ওই চিঠিটি জমা দেন। যদিও স্পিকার চিঠিটি গ্রহণ করেছেন, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, চিঠিতে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার দাবি জানানো হয়েছে, পাশাপাশি সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, এবং শিউলি সাহাকে উপদলনেতা এবং আখরুজ্জামানকে মুখ্যসচেতক করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, বিদ্রোহী শিবিরের এই চিঠিতে দলীয় সভানেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরে বিরোধ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব সংবলিত একটি চিঠিতে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা বিষয়টি বিধানসভা কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হওয়ার পরে পুলিশ ও সিআইডি ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে।
এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কার করার পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। একাধিক বিধায়ক প্রকাশ্যে শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করায় দলের ভাঙনের জল্পনাও বেড়ে গেছে।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও স্পিকারকে একটি চিঠি পাঠান। তবে স্পিকার কলকাতার বাইরে থাকায় সেই চিঠিটি গ্রহণ করা হয়নি বলে খবর পাওয়া গেছে।
আজ বুধবার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া ৫৮ বিধায়কের চিঠিটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সময় নেওয়া হয়েছে। বিধায়কদের স্বাক্ষর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে বলে বিধানসভা সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে বিদ্রোহী বিধায়কদের চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সভানেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা নতুন রাজনৈতিক আলোচনা শুরু করেছে। বাগনানের বিধায়ক অরুণাভ সেন বলেছেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি এখনও নেত্রী হিসেবে মানি। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কখনও নেতা হিসেবে মানি নাই এবং মানবও না।’
বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা ও মুখ্যসচেতক নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও কোন দিকে মোড় নেয়, তা রাজনৈতিক মহল পর্যবেক্ষণ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন