প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সৌদি আরব নিজেদের স্কুলের পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে যাতে ইসরায়েল ও ইহুদি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়কে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়। বলা হচ্ছে, রিয়াদ এই পরিবর্তনগুলো করেছে ইসরায়েলকে ‘খুশি করতে’ এবং পশ্চিমা কূটনৈতিক চাপ সামলানোর জন্য। ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-এসই দাবি করছে, সৌদি পাঠ্যবই থেকে ইসরায়েলবিরোধী বার্তা ও অনুচ্ছেদ ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
এই নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, আড়ালে থাকা ‘মুসলিমরা কখনোই জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। পূর্ববর্তী বাক্যে জেরুজালেমে মুসলিমদের উপস্থিতি যে হুমকির মুখে রয়েছে তা ফুটিয়ে তোলা হতো, যা ইসরায়েলের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের বৈরিতা উসকে দিত।
এসব পরিবর্তন এমন এক সময়ে আনা হয়েছে, যখন ইসরায়েলি রাজনীতিকেরা উন্মুক্তভাবে আল-আকসা মসজিদ ধ্বংস করে ‘ইহুদি মন্দির’ নির্মাণের দাবি তুলছেন। জেরুজালেমের মূল জনমিতি বদলে দেওয়ার জন্য এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি স্থাপন করা ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে।
ইমপ্যাক্ট-এসইর দাবি অনুযায়ী, পাঠ্যবই থেকে তথাকথিত ‘ইহুদি-বিদ্বেষী’ সকল বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছে, যা তারা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। এছাড়া পাঠ্যবই থেকে পবিত্র কোরআনের কিছু আয়াত, হাদিস এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষণীয় ঘটনাও বাদ দেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য, অসুস্থ এক ইহুদি বালককে মহানবী (সা.) দেখা করার ফলে ইসলাম গ্রহণের ঘটনাটি ২০২৫ সালের সংস্করণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
পাঠ্যবইয়ের মানচিত্রে আগে পুরো এলাকা ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে চিত্রিত করা হতো। নতুন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে সেই ফিলিস্তিন নামটি মুছে ফেলা হয়েছে, যদিও মানচিত্রে ইসরায়েল নামটি এখনও লেখা হয়নি। সমস্ত এলাকায় ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে চিহ্নিত করার নীতি থেকে সৌদি আরব সরে এসেছে। একাদশ শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে ‘ইহুদি শত্রু’ শব্দের বদলে ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা হয়েছে।
সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজকে ইসরায়েলের প্রথম প্রেসিডেন্ট চাইম ওয়াইজম্যান ফিলিস্তিন ইস্যু থেকে সরে আসতে বিপুল অর্থ ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ঐতিহাসিক নথিতে এর সত্যতা থাকলেও, এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি বইয়ে রাখার সমালোচনা করে একে ইহুদিদের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রমূলক বর্ণনা’ বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের প্রভাব বিস্তার ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইসরায়েলি গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে আরব দেশগুলোর ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক চাপ দিয়ে আসছে। এই সৌদি পাঠ্যবই পরিবর্তনকে সেই কূটনৈতিক কৌশলের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে ইসরায়েল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন